বালি পাচারে আবার সক্রিয় একদল মাফিয়া, চলছে কড়া নজরদারি
রূপক মজুমদার, বর্ধমান
নিয়ম লঙ্ঘন চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। বালিঘাট থেকে বৈধ চালান নিয়ে যত সিএফটি বালি তোলার কথা কিংবা চালানে যা লেখা হলো, তার থেকে ১০০-২০০ সিফটি (ঘনফুট) বেশি বালি ডাম্পারে বা লরিতে বোঝাই করা হতো। তার পরে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে সেই অতিরিক্ত বালি ডাম্পার বা লরি থেকে নামিয়ে দেওয়া হতো, বালির কারবারিদের ভাষায় যাকে বলা হয় কাটিং। পরে তা বেশি দরে বিক্রি করত একদল বালি-মাফিয়া।
সরকার বদলের পরে এই কারবার কিছু দিন বন্ধ থাকলেও ফের কয়েক জন বালি-মাফিয়া সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শনিবার রাতে দেখা গেল, মেমারি থানা এলাকার জাতীয় সড়কের ধারে লরি থেকে কাটিং করে বালি নামাচ্ছেন একদল শ্রমিক। ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বিধায়ক মানব গুহ তাঁদের দলের কর্মীদের দিয়ে তার ছবি তোলার ব্যবস্থা করেন।
তা হলে কি যথা পূর্বং তথা পরং (আগেও যেমন ছিল, পরেও তেমনই)। মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ রবিবার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, একেবারেই না। তিনি এ দিন কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাঁরা এখনও সেই পুরোনো অভ্যাস বজায় রেখেছেন, তাঁদের বলছি, তাড়াতাড়ি সাবধান হয়ে যান। জেলে যাবেন। কেউ বাঁচাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ ভাবছেন, সরকারের এক মাস হয়ে গিয়েছে। ব্যাস, দুর্নীতি শুরু করা যাক। তাঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। বিধায়কের টিম সব নজরে রাখছে। শনিবার রাতেই আমাদের ছেলেরা বালি কাটিং-এর চোরদের ধরেছে।’ বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, ‘তৃণমূল নেতা, উটকো বিজেপি নেতা, পুলিশ-প্রশাসনের কেউ- এই দুর্নীতির মদতদাতা যাঁরাই থাকুন, সমস্যায় পড়ে যাবেন। এই পাঁচ বছরে দুর্নীতি চলবে না। যত তাড়াতাড়ি বুঝে যাবেন, তত তাড়াতাড়ি মঙ্গল।’
বিধায়কের এই বার্তার পরে স্বাভাবিক ভাবেই জেলা প্রশাসনে আলোড়ন পড়েছে। জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ও আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর থেকে এই এলাকায় খোঁজ-খবর নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে রবিবারই। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে যে লরিটি থেকে বালি কাটিং করা হচ্ছিল, সেটির নম্বর ডব্লিউবি ২৫ এল ৪২৫৬। লরিটির বিরুদ্ধে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর প্রাথমিক জরিমানা ধার্য করেছে এক লক্ষ টাকা। একইসঙ্গে ওই লরিটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এই লরিতে কোনও বালিঘাটের ইজারাদার আর বালি লোড করতে পারবেন না। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এত কড়া নজরদারির পরেও কী ভাবে বালি মাফিয়ারা এই সাহস দেখাচ্ছে! জানা গিয়েছে, বালি মাফিয়ারাও শুরু করেছে এক নতুন পদ্ধতি। (চলবে)