হরমুজ় প্রণালী খুলবে কবে? শান্তিচুক্তির পরে বুক বাঁধছে গোটা বিশ্ব, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে বাধা অনেক - 24 Ghanta Bangla News
Home

হরমুজ় প্রণালী খুলবে কবে? শান্তিচুক্তির পরে বুক বাঁধছে গোটা বিশ্ব, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে বাধা অনেক

Spread the love

হরমুজ় প্রণালী খুলবে কবে? পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিচুক্তির পরে এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরের পরে আগামী শুক্রবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে হরমুজ় দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই দাবি করেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পেতে রেখেছে ইরান। ফলে নির্বিঘ্নে ফের জাহাজ চলাচল শুরু করতে হলে, আগে সেই মাইন সরাতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। শান্তিচুক্তির ঘোষণার পরে পৃথক একটি পোস্টে এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্পও। তিনি বলেন, ‘আগামী শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাইন অপসারণের কাজও চলবে। এর সুফল পাবে গোটা বিশ্ব।’

আগামী শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় মুখোমুখি বসবে আমেরিকা ও ইরানের শীর্ষ কর্তারা। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন তাঁরা। তার পরেই খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা এবং ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়গুলি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া লেবাননে ইজ়রায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়টিও আলোচনার আওতায় রয়েছে।

হরমুজ় প্রণালীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে বিশ্লেষকেরা ‘ডুয়াল ব্লকেড’ বা দ্বিস্তরীয় অবরোধ বলে উল্লেখ করছেন। এর অর্থ, দুই পক্ষই আলাদা ভাবে জাহাজ চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত জাহাজের থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা করেছিল ইরান। জারি করেছিল বিধিনিষেধও। অন্য দিকে, ইরানের সমস্ত বন্দর অবরোধ করে রেখেছিল আমেরিকান সেনা। ফলে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অবরোধের সময়সীমা

২৮ ফেব্রুয়ারি: সংঘাত শুরুর পরে ইরান হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে।

মার্চ: হামলা, মাইন বিস্ফোরণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়।

এপ্রিল: যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বন্দরে অবরোধ ঘোষণা করে আমেরিকান সেনা।

এপ্রিলের মাঝামাঝি: দুই দেশের বিধিনিষেধ একসঙ্গে কার্যকর হতে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, তখন থেকেই হরমুজ় প্রণালী কার্যত ‘সম্পূর্ণ রুদ্ধ’ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারে। তবে তার জন্য দুই পক্ষ বাস্তবে কতটা প্রতিশ্রুতি কার্যকর করছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *