NCPI Fund: টেছিল মাত্র ৮২২ ভোট! বিদ্রোহী তৃণমূলের ‘ভরসা’ NCPI-র কাছে কত টাকা রয়েছে জানেন? | Rebel TMC MPs to Merge with NCPI: Do You Know the Party’s Total Assets and Funds?
কীভাবে উঠে এল এনপিসিআই?Image Credit: TV9 বাংলা
নয়া দিল্লি: ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (Nationalist Citizens Party of India)। রবিবার দুপুর পর্যন্ত এই রাজনৈতিক দলের পরিচয় কেউ জানত না। এই নামে যে কোনও দলের অস্তিত্ব আছে, তাও জানত না কেউ। আজ সেই দলকে নিয়েই রাজ্য তথা দেশে চর্চা, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা রাতারাতি এনসিপিআই (NCPI)-র সঙ্গে মিশে গিয়েছে। কোথা থেকে এল এই দল?
কীভাবে তৈরি হল এনসিপিআই?
২০২২ সালে ১৩ অক্টোবর তৈরি হয়েছিল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া। নির্বাচন কমিশনে রেজিস্টার করা হয় এই দলটিক ২০৩ সালের ২০ জানুয়ারি। এর প্রধান কার্যালয় হাওড়ার বাঁকরায়। ওই ঠিকানায় দুটি প্রতিষ্ঠানও রেজিস্টার্ড রয়েছে, বিশ্ববাজার প্রাইভেট লিমিটেড ও পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত মহিলা কর্মী অ্যাসোসিয়েশন।
মূলত পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অসমে এই দলের সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে না লড়লেও, আত্মপ্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই, ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল এনসিপিআই।
নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী, এই দল মাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা ডোনেশন বা অনুদান পেয়েছে। পার্টির নথিতে ট্রেজাজার হিসাবে শিউলি কুণ্ডুর নাম উল্লেখ রয়েছে। দলের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড বিশ্ববাজার প্রাইভেট লিমিটেড ও পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত মহিলা কর্মী অ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টরও তিনিই।
শিউলি কুণ্ডুর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুর নাম উল্লেখ রয়েছে দলের প্রেসিডেন্ট হিসাবে। তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও আছে।
কেমন ফল করেছিল এনসিপিআই?
এনসিপিআই নেতা শান্তনু দে এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা ত্রিপুরার পিছিয়ে পড়া, বঞ্চিত আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যই রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। সাতটি কেন্দ্রে তারা প্রার্থী দেন। এর মধ্যে চারটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়ে যায়। দলীয় প্রতীকে মাত্র দুটি আসন থেকে লড়েন এনসিপিআই-র প্রার্থীরা। চাউমানুতে ৫৩৬ ভোট এবং কৈলাশহরে ২৮৬ ভোট পায় এনসিপিআই প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ৮২২ ভোট পেয়েছিল। তৃতীয় প্রার্থী ত্রিপুরা বিধানসভায় নির্দল হিসাবে লড়েছিলেন।
উধাও দল!
এনসিপিআই-র টিকিটে নির্বাচনে লড়া প্রার্থীদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকে দল কার্যত গায়েব হয়ে গিয়েছিল। কৈলাশহরের প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গীর আলি। তিনি বলেন, “শিউলি কুণ্ডু আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি কলকাতা থেকে এসেছিলেন ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে। ভোট মিটে যাওয়ার পরই তারা ফিরে যায়। আর কোনও যোগাযোগ নেই দলের সঙ্গে।”
আরেক প্রার্থী বর্জেদা ত্রিপুরা বলেন, “শান্তনু দে-র মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। ওরা আমার কাছ থেকে ভোটে লড়ার জন্য কোনও টাকা যায়নি। নির্বাচনে খুব একটা প্রচার করা হয়নি। নির্বাচনের পর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”
এনসিপিআই-র ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচনেও লড়াইয়ের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দলের অন্দরে দ্বন্দ্ব থাকায় তা আর হয়নি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার জন্যও তিনি দলের সকলকে নিয়ে প্রস্তুতি ও উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। এখন সেই দলেই মিশে গেলেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ।