উদ্বাস্তু শিবির থেকে বিশ্বকাপের আলোয়, ইতিহাসের পাতায় অস্ট্রেলিয়ার ইরানকুন্দা
এর পর শুরু হয় তাঁর জাদু। চোখ ধাঁধানো গতিতে তুরস্কের রক্ষণভাগ চিরে এগিয়ে যান তিনি। সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক, পিছন থেকে ধাওয়া করা ডিফেন্ডার— কোনও কিছুই তাঁর মনোযোগ নষ্ট করতে পারেনি। অসাধারণ ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন ইরানকুন্দা। মুহূর্তের মধ্যে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারিতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা। এটি শুধুমাত্র একটি গোল নয়, এটি ছিল তাঁর প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতার নিখুঁত উদাহরণ।
উদ্বাস্তু শিবির থেকে বিশ্বকাপের আলোয়
ইরানকুন্দার জীবনের গল্পও কম অনুপ্রেরণাদায়ক নয়। তাঁর জন্মের আগেই গৃহযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিবারকে বুরুন্ডি (Burundi) ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। পরে তারা আশ্রয় নেয় তানজানিয়ার (Tanzania) কিগোমা (Kigoma) এলাকার একটি উদ্বাস্তু শিবিরে। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখানেই জন্ম হয় ইরানকুন্দার।
তবে তাঁর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ায়। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে সেখানেই চলে আসেন তিনি। প্রথমে পার্থে (Perth) কিছু দিন কাটানোর পর পরিবার স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে অ্যাডিলেডে (Adelaide)। সেখানকার স্থানীয় মাঠেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তাঁর। সেই ছোট্ট শুরুই অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে তাঁকে।