Abhishek Banerjee on CID: ‘বাড়িতে এসে দেখলাম সিআইডি বেরিয়ে গিয়েছে’, তারপরেই রাস্তায় বেরিয়ে এলেন অভিষেক | “I came home and found that the CID had already left.” What else did Abhishek Banerjee say about the CID
কলকাতা: CID-কে আড়াই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে অবশেষে বাড়িতে এলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ততক্ষণে চলে গিয়েছে সিআইডি। যদিও অভিষেক আসার কিছু সময়ের মধ্যে ফের ফিরে এলেন সিআইডি-র তদন্তকারী দলের সদস্য। ডিজে মামলায় তলবও করা হল অভিষেককে। ১৬ তারিখ সকাল ১১টায় তাঁকে ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ। দেওয়া হল নোটিস।
কী বলছেন অভিষেক?
যদিও এদিন বাড়ি ফিরেই সংবাদিকদেরও মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। সেখানেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে লাগাতার সুর চড়ালেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে একইসঙ্গে তিনি যে সিআইডি-র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন তাও জানালেন। ডিজে মামলায় তাঁকে ১৬ তারিখ ডাকা হলেও সই জালিয়াতির তদন্তে তাঁকে ডাকা হয়েছে ১৪ তারিখ। অভিষেক বলেন, “যাওয়ার জন্য বলেছে। আমি যাব। আমি কোনওদিন কোনও তদন্ত এড়িয়ে যাইনি। দিল্লিতেও আমাকে যখন তদন্তকারী সংস্থা ডেকেছে। আমি গিয়েছি। কলকাতাতে নিজাম প্যালেস হোক বা সিজিও, আমি গিয়েছি। আমি সব সময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আমার সামর্থ অনুযায়ী আমি নিশ্চিতভাবে সহযোগিতা করব।”
কিন্তু সিআইডিকে এদিন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো নিয়েও সাফাই দিতে দেখা যায় অভিষেককে। তুলে আনেন দলীয় বৈঠকের প্রসঙ্গ। বলেন, “আজ দলনেত্রীর বাড়িতে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক ছিল। সেখানে একাধিক বিধায়ক থেকে সাংসদ ছিলেন। আমাদেরই মিটিং চলার সময়ে আমি খবর পাই সাড়ে ৪টে নাগাদ সিআইডি-র একটা টিম এসেছে। আলাদা মামলায় নোটিস দিতে। আমি অনুরোধ করি, আমি বাড়িতে সশরীরে নেই বলে চিঠিটা অন্য কাউকে দিয়ে দিন। তখনই বলি আপনারা যদি আমাকে দিতে চান তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। আমি সোয়া ৭টা নাগাদ বাড়িতে ঢুকে দেখি সিআইডি বেরিয়ে গিয়েছে। পরবর্তীকালে যদি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে আসে তাহলে কোন সময়ে আমি বাড়িতে থাকবো আমি জানাবো।”
আদালতের রক্ষাকবচ পেতেই বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরে চলে গিয়েছিলেন ভবানীভবনে। প্রায় ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদও চলে। তিনি যে খুব একটা তদন্তে সহযোগিতা করেননি সেই খবরও শোনা যায়। এদিন আবার সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সিআইডি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন অভিষেক। বলেন, “আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী কী প্রশ্ন করেছে, কী উত্তর দিয়েছি আমি কাল বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে না ঢুকতেই দেখছি মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়ে গিয়েছে। এটা নিয়ে আমি আগামীতে হাইকোর্টে যাব। আমি যখন তদন্তের সময় কী আলোচনা হয়েছে সেটা নিয়ে কাউকে কিছু বলছি না তখন বুঝতে হবে তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকেই লিক হয়েছে।”
এখানেই শেষ নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে দফায় দফায় সুর চড়ান অভিষেক। দল হারলেও তার মেজাজ যে একই রয়েছে তাও এদিন বেশ ভালো মতোই ধরা পড়ল। সোচ্চারেই বললেন, “দল ভাঙানোর রাজনীতি করে কোনও লাভ নেই। ২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব তৃণমূল করবে। একচুল জায়গা তৃণমূল ছাড়বে না। সিআইডি দিয়ে, সিবিআই দিয়ে, দল ভেঙে, পার্টি অফিস দখল করে তৃণমূলকে দমানো যাবে না।”