বন্ধ করে খালি করা হল রাজধানীর তৃণমূল কার্যালয়
নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ২০, রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাংলোটি অবশেষে খালি করে দেওয়া হয়েছে (Delhi)। গত দুই বছর ধরে এই বাংলো থেকেই রাজধানীতে …
নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ২০, রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাংলোটি অবশেষে খালি করে দেওয়া হয়েছে (Delhi)। গত দুই বছর ধরে এই বাংলো থেকেই রাজধানীতে দলের সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আবহে বাংলোটি খালি হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সূত্রের খবর, বাংলোটি সম্পূর্ণভাবে খালি করার পাশাপাশি সেখান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাইনবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার এবং হোর্ডিং সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সংবলিত প্রচার সামগ্রীও আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না। ফলে একসময়ের ব্যস্ত রাজনৈতিক কেন্দ্র এখন কার্যত নির্জন।
আরও দেখুনঃ কলকাতা থেকে গ্রেফতার কুমিল্লায় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে কোরান শরীফ রাখা বাহারুদ্দিন
এই বাংলোটি লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামে বরাদ্দ ছিল। সম্প্রতি তিনি লোকসভার সচিবালয়ের কাছে আবেদন করে বাংলোটি ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং পরিবর্তে একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দের আবেদন করেন। সচিবালয় সেই আবেদন মঞ্জুর করার পরই বাংলো খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও রাজনৈতিকভাবে এর তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কারণ, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। দলের একাংশের অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের খবর ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ লোকসভা স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও সেই চিঠির বিষয়বস্তু এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি, তবে ঘটনাটি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দিল্লিতে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হারানো শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও লুকিয়ে থাকতে পারে। কারণ রাজধানীতে কোনও জাতীয় বা আঞ্চলিক দলের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্যালয় শুধু অফিস নয়, সেটি রাজনৈতিক উপস্থিতি ও প্রভাবেরও প্রতীক। সেই দিক থেকে দেখলে তৃণমূলের এই বাংলো খালি হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে সাংসদ পার্থ ভৌমিকের আবাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ফল এবং এর সঙ্গে দলের সাংগঠনিক অবস্থানের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রসঙ্গ সামনে আনতে শুরু করেছে।