জীবনসঙ্গীর বাছাইয়ের সময় কোন ৫ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন? প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন… - 24 Ghanta Bangla News
Home

জীবনসঙ্গীর বাছাইয়ের সময় কোন ৫ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন? প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন…

Spread the love

বিয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি। জীবনসঙ্গী ভালো হলে যেমন জীবনে সুখের শেষ থাকে না, তেমন সঙ্গী বাছাইয়ের ভুল হলে নরকের সমান হয়ে উঠতে পারে জীবন। ছেলে হোক বা মেয়ে, সবার মনেই একসময় প্রশ্ন জাগে— কেমন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করলে দাম্পত্য জীবন সুখী ও স্থিতিশীল হবে? অনেক সময় মানুষ তাড়াহুড়ো করে বা শুধুমাত্র বাহ্যিক আকর্ষণে মুগ্ধ হয়ে এমন সঙ্গী বেছে নেন, যিনি প্রকৃত অর্থে তাঁর জন্য উপযুক্ত নন। ফলস্বরূপ সম্পর্কে অশান্তি, মতবিরোধ এমনকি বিচ্ছেদের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি এক তরুণী আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে জানতে চান, জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার সময় কোন বিষয়গুলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উত্তরে তিনি একজন আদর্শ জীবনসঙ্গীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের কথা তুলে ধরেন। প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন…

চরিত্রবান মানুষই হতে পারেন সেরা জীবনসঙ্গী

প্রেমানন্দজি মহারাজের মতে, জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার সময় সবার আগে তাঁর চরিত্র বিচার করা উচিত। বর্তমান সময়ে অনেকেই বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেন, অথচ একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর চরিত্রেই লুকিয়ে থাকে। একজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষ সম্পর্কের বিশ্বাস কখনও ভাঙেন না। অন্যদিকে, চরিত্রে দুর্বল ব্যক্তি যতই সুন্দর হোন না কেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের মধ্যে দুঃখ ও অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারেন। তাই জীবনসঙ্গী হিসেবে সৎ চরিত্রবান মানুষকেই বেছে নেওয়া উচিত।

আত্মসংযম থাকা অত্যন্ত জরুরি

বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় সমস্যা হলো আবেগ ও রাগ নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা। প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, এমন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা উচিত যিনি নিজের রাগ, আনন্দ বা অন্য যে কোনও অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন। যিনি চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেন এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজ করেন না। আত্মসংযমী মানুষের সঙ্গে জীবন সাধারণত বেশি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল হয়।

Bengali Marriage
বিয়ের মুহূর্ত

ভালো সংস্কার সম্পর্ককে মজবুত করে

একজন মানুষের শিক্ষা, অর্থ বা সম্পদের চেয়েও তাঁর সংস্কার ও আচরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, ভালো সংস্কারের অর্থ হলো বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা, ছোটদের প্রতি স্নেহশীল হওয়া এবং সকলের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা। এমন মানুষরা সাধারণত অহংকারী হন না এবং সম্পর্কের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হন। ফলে দাম্পত্য জীবনেও অকারণ সংঘাতের সম্ভাবনা কমে।

বদভ্যাস থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন

মাদকাসক্তি, খারাপ সঙ্গ বা অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস প্রথমে ছোট মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সম্পর্কের উপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, যাঁদের মধ্যে এ ধরনের বদভ্যাস রয়েছে, তাঁদের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ায় এবং ব্যক্তির স্বভাবও নেতিবাচক হয়ে ওঠে।

দায়িত্বশীল মানুষই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারেন

বিয়ে শুধুমাত্র একটি সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি বড় দায়িত্বও। তাই এমন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা উচিত, যিনি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন এবং তা রক্ষা করার জন্য আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করেন। যিনি সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ সব পরিস্থিতিতেই পাশে থাকার মানসিকতা রাখেন। কারণ দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষই কঠিন সময়েও সম্পর্ককে ভেঙে যেতে দেন না।

প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, একজন আদর্শ জীবনসঙ্গীর মধ্যে চরিত্র, আত্মসংযম, ভালো সংস্কার, বদভ্যাসমুক্ত জীবনযাপন এবং দায়িত্ববোধ— এই পাঁচটি গুণ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই গুণগুলি থাকলে দাম্পত্য জীবন সুখী, স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়, তা সে পুরুষ হোক বা নারী।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *