গোঁফ কামিয়ে পালানোর ছক, কেরালা থেকে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা
গোঁফ কামিয়ে মুখের ভোলবদল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কৌশল কাজে লাগেনি। আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ছিল আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক স্বপনকুমার নন্দীর বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আরামবাগ থেকে পৌঁছে গিয়েছিলেন কেরালায়। শুক্রবার কেরালার তিরুবনন্তপুরম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
আরামবাগ পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যানের অভিযোগ অনুযায়ী, পুর এলাকার স্কুলগুলিতে সোলার প্যানেল বসানোর ‘গ্রিন সিটি মিশন’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ, স্বপন নন্দীর আমলে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে ৭ কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। বেআইনি টেন্ডার, নিয়ম না মেনে পছন্দের সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া। সময়সীমা বৃদ্ধি, কাজ শেষ না হলেও বারবার সময় বাড়ানো, সম্পূর্ণ টাকা প্রদান, অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্যও পুরো বিল মিটিয়ে দেওয়া, ভুয়ো শংসাপত্র, যথাযথ যাচাই ছাড়াই কাজ শেষের সার্টিফিকেট দেওয়া— এরকম একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
মামলার গুরুত্ব বুঝে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ SIT গঠন করে। তদন্তে জানা যায় অভিযুক্ত কেরালায় আত্মগোপন করেছেন। ১২ জুন সিঙ্গুর থানার পুলিশের একটি টিম এবং হুগলি গ্রামীণ পুলিশের SOG-এর টিম কেরালার তিরুবনন্তপুরম গ্রামীণ পুলিশ জেলার কাঞ্জিরামকুলাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বাড়ি আরামবাগের গৌরহাটি মোড় এলাকায়। পুলিশ তাঁকে ট্রানজ়িট রিমান্ডে এনে আদালতে পেশ করবে।
উল্লেখ্য,২০১৩ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আরামবাগ পুরসভার বোর্ড ভেঙে দখল নেয় তৃণমূল। তখন চেয়ারম্যান হন স্বপন নন্দী, ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন বামফ্রন্টের দীপু সরকার। ২০১৫ সালের পুর নির্বাচনে সব ওয়ার্ড জিতে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসে। স্বপন নন্দী চেয়ারম্যান, রাজেশ চৌধুরী ভাইস চেয়ারম্যান হন।