স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, বুক ফুলিয়ে শিব-সুজিতরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, বুক ফুলিয়ে শিব-সুজিতরা

Spread the love

এই সময়: পালাবদলের পরে গোটা রাজ্যজুড়েই তৃণমূলের একাধিক নেতা গা-ঢাকা দিয়েছেন। আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকেই। ঘাসফুলের নেতাদের দেখলে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের দিকে ছোড়া হচ্ছে ডিম। উত্তর দিনাজপুর, মালদা জেলাতেও একাধিক তৃণমূল নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন।কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন।এর পাশাপাশি একাধিক নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতিতেও হাতেগোনা কয়েকজন তৃণমূল নেতা কিন্তু এখনও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। জনরোষের মুখে পড়তে হয়নি তাঁদের। এক্ষেত্রে তাঁদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন রায়গঞ্জ শহর তৃণমূল সভাপতি শিবশঙ্কর রায়চৌধুরী, জেলার প্রবীণ নেতা তিলক চৌধুরী বা ইংরেজবাজার পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার সুজিত সাহা। এখনও পর্যন্ত এদের কাউকেই কোনও অপ্রীতিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়নি। এমনকী, বিজেপি নেতাদের মুখেও এদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ শোনা যায়নি।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে শহর কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান শিবশঙ্কর রায়চৌধুরী। ভোটে পর্যদুস্ত হওয়ার পরেও কিন্তু তাঁকে চোর স্লোগান শুনতে হয়নি বা মারমুখী জনতার মুখেমুখি হতে বয়নি। তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই বাকিদের থেকে তাঁকে আলাদা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে কোনওদিনই যুক্ত ছিলাম না। দল হারায় স্বাভাবিক ভাবেই হাতে অনেক সময় রয়েছে। তাই নিজের পরিবার ও ব্যবসায় মন দিয়েছি। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি। আমি দুর্নীতিবাজ নই, তাই আমার কোনও ভয়ও নেই।’

একই ভাবে রায়গঞ্জে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তিলক চৌধুরী। তিনি জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার তাঁর বাড়িতে এসেছেন। দল হেরে যাওয়ার পর তিনিও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। তাঁর কথায়, ‘অন্য দল থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন প্রচুর নেতা। সেই কারণেই দলটার এই পরিণতি। সর্বস্তরে দুর্নীতি হয়েছে, এটা তো আর অস্বীকার করা যায় না। যাঁদের পিছনে নোংরা আছে, তাঁদের তো সাধারণ মানুষ বলবেনই। আমি তো সব জায়গায় যাচ্ছি, ঘুরছি। আমাকে তো কেউ কোনও কটুবাক্য বলছে না।’

মালদার ইংরেজবাজার পুরসভার অনেক কাউন্সিলারের দেখা না মিললেও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলার সুজিত সাহা কিন্তু পরিষেবা অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন তিনি নিয়ম করে নিজের এলাকার একটি গাছতলার নীচে বসে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে সমাধান করার চেষ্টা করছেন। রাতে কারও কোনও সমস্যা হলে ছুটে যাচ্ছেন তাঁকে নিয়ে মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনও অসন্তোষ নেই। বরং তৃণমূলের এই ভরাডুবির পরেও তাঁকেই চাইছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ওয়ার্ডবাসীদের বক্তব্য, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা ধরা পড়ছেন। কিন্তু তার মধ্যেও এমন একটা সহজ সরল সৎ কাউন্সিলার আমাদের এলাকায় রয়েছেন, সেটা গর্বের বিষয়। সুজিত বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য যতটা পারছি কাজ করছি। মানুষের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।’

রাজ্যে পালাবদলের কলকাতা পুরনিগম, বিধাননগর পুরনগমের মেয়র পদত্যাগ করেছেন। সেখানে প্রশাসক বসেছে। এছাড়া তৃণমূলের হাতে থাকা রাজ্যের আরও বহু পুরসভায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে নিয়মিত তিনি পুরসভায় আসছেন। শুধু আসা নয়, পুর নাগরিকরা যাতে সঠিক পরিষেবা পান, সে বিষয়েও নজর রাখছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি তো কোনও অন্যায় করিনি, তাহলে ভয় কিসের। প্রতিদিন সকালে পুরসভায় আসছি, বিকেলে বাড়ি যাচ্ছি। ঘরে বসে থাকা কাউন্সিলারদের রাস্তায় নেমে কাজ করানোর জন্য চেষ্টা করছি।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *