সেতু থেকে পর্যটন: আশ্বাস পূরণে রূপরেখা, খুশি তিন জেলায় - 24 Ghanta Bangla News
Home

সেতু থেকে পর্যটন: আশ্বাস পূরণে রূপরেখা, খুশি তিন জেলায়

Spread the love

এই সময়: বর্ষা এলেই আতঙ্কের প্রহর গোনেন ঘাটালবাসী। বন্যায় প্লাবিত হয় ঘাটাল, দাসপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। জল নামতে কেটে যায় মাসাধিক কাল। এই জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে কবে, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খায় ঘাটালের মানুষের মনে। ২৬-এর ভোটের প্রচারে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। মঙ্গলবার কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ নিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন ঘাটালবাসী। বৈঠকের পরে ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব ঘাটালবাসীর আশাকে আরও বাড়িয়ে দেন।

ঘাটালের বাসিন্দা আরতি জানা, সংগ্রাম সামন্ত বলেন, ‘তৃণমূল সরকার কাজ শুরু করলেও নদী-খাল ড্রেজিং ছাড়া তেমন কিছু হয়নি। কেন্দ্র-রাজ্যে যৌথ উদ্যোগ ছাড়া মনে হয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন। ডাবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে বলেই মনে করছি। আজ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন হবেই। এখন তো আর আগের মতো কেন্দ্র-রাজ্যে দ্বন্দ্বের ব্যাপার নেই।’

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি। সোমবার কমিটির পক্ষ থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ নিয়ে ঘাটাল ও দাসপুর বিধানসভার বিধায়কদের স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ দিন বৈঠক নিয়ে কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত আমাদের কমিটির প্রতিনিধি-সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা হোক। পূর্বের সরকারের আমলে গ্রহণ করা স্কিম সংশোধনের প্রয়োজন থাকলে তা সংশোধন করে দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত ছিলেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। বৈঠক প্রসঙ্গে | শিউলি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আগামী পাঁচ বছর কেশপুরের মানুষের জন্য কাজ করা আমার দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেশপুরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। তিনি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছেন। বৈঠকে আমি কেশপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছি এবং মুখ্যমন্ত্রী সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।’ বিধায়কের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম বিরোধী বিধায়ক হিসেবে প্রশাসনিক বৈঠকে নিজের বক্তব্য রাখার পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছেন।

কেশপুরের বিশ্বনাথপুরে কংসাবতী নদীর উপর সেতু নির্মাণ, ক্ষুদিরাম বসু অডিটোরিয়ামের সংস্কার, আনন্দপুরে নতুন অডিটোরিয়াম নির্মাণ এবং পালংপুরে সেতু তৈরির মতো একাধিক প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারের কাছে তুলে ধরেছন বিধায়ক। এলাকার বাসিন্দা গিয়াসুদ্দিন মল্লিক, প্রশান্ত জানা ও সোনালি সাউ-এর মতে, সরকার ও বিরোধী পক্ষ উন্নয়নের স্বার্থে এক সঙ্গে কাজ করলে তার সুফল পাবেন সাধারণ মানুষই। তাঁদের আশা, প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি কেশপুরের উন্নয়নে নতুন গতি দেবে।

ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কার্ডিওলজি বিভাগ, এমআরআই পরিষেবাগুলি চালু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। এ দিন তিনি সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। পর্যটন স্থলগুলিকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং বেলপাহাড়ির সঙ্গে গোপীবল্লভপুরকেও পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের শিলদা চন্দ্রশেখর কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধ আদিবাসী ছাত্রাবাসটি চালু করার বিষয়ে জানান বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু। হাতি ও মানুষের সংঘাত যথেষ্ট পরিমাণে বেড়েছে ঝাড়গ্রামে। বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং হাতির সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রণত টুডু বলেন, ‘জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এ দিন আলোচনা হয়েছে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *