পাঞ্জাব-হরিয়ানায় বিশাল NIA অভিযান! তিন জঙ্গি হামলায় ১৮ জায়গায় চলছে তল্লাশি
পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় জঙ্গি-গ্যাংস্টার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে যুক্ত তিনটি পৃথক সন্ত্রাসবাদী মামলার তদন্তে মঙ্গলবার দুই রাজ্যের মোট …
পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় জঙ্গি-গ্যাংস্টার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে যুক্ত তিনটি পৃথক সন্ত্রাসবাদী মামলার তদন্তে মঙ্গলবার দুই রাজ্যের মোট ১৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তপারের জঙ্গি চক্র, অর্থ লেনদেন এবং ভারতে সক্রিয় সহযোগীদের খোঁজে আরও একধাপ এগোল তদন্তকারী সংস্থা।
NIA সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মোট নয়টি জেলার ১৮টি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়ি ও অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করেছেন। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ও অনলাইন যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ মোদী সরকারের বড় সিদ্ধান্তে এবার ড্রাইভিং লাইসেন্স হচ্ছে ডিজিটাল-বাড়ছে মেয়াদ
তদন্তকারীদের মতে, এই সমস্ত তথ্য ও নথি এখন ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মূল লক্ষ্য হল সীমান্তপারের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করা এবং পাকিস্তানে বসে পরিচালিত এই নেটওয়ার্কের ভারতীয় সংযোগগুলি চিহ্নিত করা। NIA জানিয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তিকে তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য নোটিসও পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানে বসে শাহজাদ ভাট্টি শুধুমাত্র অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং ধীরে ধীরে একটি সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের অন্যতম পরিচালকে পরিণত হন। NIA-র দাবি, ভারতে সংঘটিত একাধিক হামলার নেপথ্যে তাঁর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে ‘গ্যাংস্টার থেকে জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পাঞ্জাবের জলন্ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রজার সান্ধুর বাড়িতে গ্রেনেড হামলার ঘটনা। NIA-র তদন্তে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন শাহজাদ ভাট্টি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এই মামলায় তাঁকে পলাতক অভিযুক্ত হিসেবে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে হরিয়ানার সিরসা মহিলা থানায় বিস্ফোরণের ঘটনাতেও ভাট্টির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে NIA। এই মামলায় চলতি বছরের মে মাসে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শাহজাদ ভাট্টি এবং পাকিস্তানভিত্তিক আরেক হ্যান্ডলার সোহেল আহমেদ ওরফে সোহেল বালোচ।
তদন্তকারীদের মতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হরিয়ানার আম্বালার বালদেব নগর থানায় ঘটে যাওয়া গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও একই নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক অভিযুক্তের সঙ্গে শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে তিনটি মামলাই এখন একই বৃহত্তর জঙ্গি-গ্যাংস্টার চক্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।