এবার ‘বেসুরো’ অভিষেকের ‘সেনাপতি’ সায়নী! শতাব্দী-শুভেন্দুর চা-চক্রে তীব্র জল্পনা
কলকাতা: বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এবার লোকসভার সংসদীয় দল, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ‘অপারেশন লোটাস’ (Operation Lotus) যেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। সোমবারই তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে …
কলকাতা: বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এবার লোকসভার সংসদীয় দল, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ‘অপারেশন লোটাস’ (Operation Lotus) যেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। সোমবারই তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ (NDA) জোটে শামিল হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। আর এই নজিরবিহীন ডামাডোলের মাঝেই এবার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরে। সূত্রের খবর, খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সেনাপতি তথা যাদবপুরের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষও এবার সুর বদলে ‘বিদ্রোহী ব্লকে’ নাম লেখাতে চলেছেন।
একদা বামমনস্কা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচক সায়নী পরবর্তীতে তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরেই মূলধারার রাজনীতিতে এসেছিলেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে তাঁর সাংগঠনিক গুরুত্ব একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। এরপর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে দলের টিকিটে জয়ী হন তিনি। বিগত দিনে পরনে সাদা শাড়ি আর পায়ে হাওয়াই চটি গলিয়ে সায়নী নিজেকে কার্যত মমতার ‘রেপ্লিকা’ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গুড বুক’-এও তাঁর নাম ছিল প্রথম সারিতে। অতীতে ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ পোস্টের মতো চরম বিতর্কের সময়েও দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। তবে সেই সায়নীই এবার দিল্লিতে দলবদলুদের তালিকায় নাম লেখানোয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক ও স্পিকারকে চিঠি
সোমবারের ঘটনাক্রম অবশ্য অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। সকালেই দেশের রাজধানীতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে এক দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। এই বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা প্রকাশ করেন ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ। ফলে লোকসভাতেও এখন ‘আসল তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী শিবিরের নিয়ন্ত্রণ চলে গেল।
শতাব্দীর বাড়িতে শুভেন্দু, রাজ্যসভাতেও কি নজর?
নাটকের এখানেই শেষ নয়। সোমবারের শেষলগ্নে বীরভূমের প্রবীণ ও চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে ফের একপ্রস্থ বৈঠকে বসেন বিদ্রোহীরা। আর সেই বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শতাব্দীর বাড়িতে শুভেন্দুর এই উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ একধাক্কায় অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, লোকসভার পর এবার কি রাজ্যসভাতেও ‘অপারেশন লোটাস’ নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল? যদিও এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বৈঠক শেষে বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, এটি রাজনৈতিক কোনও আলোচনা ছিল না, স্রেফ একটি সান্ধ্য আড্ডা তথা চা-চক্র মাত্র। তবে এই ব্যাখ্যাকে যে রাজনৈতিক মহল এত সহজে গিলছে না, তা বলাই বাহুল্য।