অনুমতি না-নিয়ে ছাড়া যাবে না ক্যাম্পাস, বিশ্বভারতীর নির্দেশিকায় কর্মী, অধ্যাপকরা ক্ষুব্ধ
এই সময়: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষক কিংবা অশিক্ষক, কোনও কর্মীই কাজের সময়ে বিভাগীয় বা সংশ্লিষ্ট সেন্টারের প্রধানের আগাম অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরোতে পারবেন না। কর্তৃপক্ষের এই কড়া ফরমানের পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহলে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনের দাবি, এই নির্দেশিকা অধ্যাপকদের স্বাধীনতা ও আত্মসম্মানের উপরে বড় আঘাত।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মানুবর্তিতা ও কাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ। প্রশাসনের একাংশের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন না। নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এই প্রবণতা রুখতে এবং কাজের সময়ে সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই আগাম অনুমতির নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
এই যুক্তি কর্তৃপক্ষের কোনও ভাবেই মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এই নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করে ‘বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন’ (ভিবিইউএফএ)-এর তরফে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের ই-মেল মারফত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষকদের বক্তব্য, এই ধরনের ফতোয়া অত্যন্ত অবমাননাকর এবং এটি অকারণে সমস্ত শিক্ষকের সততা, দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ববোধের উপরে সন্দেহ প্রকাশ করে। শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শিক্ষাদান কিংবা গবেষণার মতো বৌদ্ধিক কাজকে ঘড়ির কাঁটার ফ্রেমে বা নির্দিষ্ট কিছু ঘণ্টার গণ্ডিতে বেঁধে পরিমাপ করা যায় না। এটা অত্যন্ত অবাস্তব এবং কাজের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর। এমন বহু অধ্যাপক আছেন, যাঁরা নিজেদের গবেষণার কাজে প্রত্যেকদিন ল্যাবরেটরি বা অন্য বিভাগগুলিতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় কাটান। অনেক সময়ে তাঁদের কাজ শেষ করতে করতে রাত ১০টা বা তারও বেশি হয়ে যায়।
কোনও ধরনের বৈধ কারণ ছাড়াই শিক্ষকদের সততা নিয়ে এমন ধরনের প্রশ্ন তোলায় তাঁরা গভীর ভাবে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করছেন। এই জাতীয় নির্দেশিকা দ্রুত প্রত্যাহার করা না-হলে আগামী দিনে শান্তিনিকেতনের মতো এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পাশাপাশি নানা ধরনের গবেষণার পরিবেশও দারুণ ভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে বিস্বভারতীয় নানা মহলের তরফে।