Dhuno vs Agarbatti: ধূপকাঠি নাকি ধুনো? ঈশ্বর তুষ্ট কীসে? | dhupkathi or dhuno which is best for puja - 24 Ghanta Bangla News
Home

Dhuno vs Agarbatti: ধূপকাঠি নাকি ধুনো? ঈশ্বর তুষ্ট কীসে? | dhupkathi or dhuno which is best for puja

Spread the love

সনাতন ধর্মে নিত্যপূজা থেকে শুরু করে বড় কোনও উৎসব— ঈশ্বর আরাধনায় সুগন্ধির ব্যবহার আবহমানকালের। আর এই সুগন্ধির কথা উঠলেই মন ও মস্তিস্কে দুটি নাম সবার আগে ভেসে ওঠে— ধূপকাঠি এবং ধুনো। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ঈশ্বরের বন্দনায় এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য? কিসে বেশি তুষ্ট হন দেব-দেবী?

সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, ধুনো হলো অত্যন্ত পবিত্র এবং দেব-দেবীকে নিবেদনের জন্য সর্বোত্তম উপাদান। ধুনো মূলত শাল গাছের আঠা বা নির্যাস থেকে তৈরি হয়, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বিশুদ্ধ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ধুনোর সুগন্ধ চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং শুভ শক্তির আবাহন ঘটায়। বিশেষ করে মা দুর্গা, মহাদেব এবং মা লক্ষ্মীর পুজোয় ধুনো অপরিহার্য। আরতির সময় পঞ্চপ্রদীপের পাশাপাশি ধুনোর ধোঁয়া দেওয়ার যে প্রাচীন রীতি রয়েছে, তা মূলত পরিবেশ ও মনকে দেব-আরাধনার উপযুক্ত করে তোলার জন্যই করা হয়ে থাকে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ধূপকাঠি জ্বালানো অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক হলেও, শাস্ত্রজ্ঞদের একাংশ এর ব্যবহারে কিছুটা আপত্তি প্রকাশ করেন। এর মূল কারণ হল, বাজারচলতি অধিকাংশ ধূপকাঠিতে কাঠি হিসেবে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। সনাতন ধর্মে বাঁশ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ মনে করা হয় বাঁশ পোড়ালে বংশের ক্ষতি হয় এবং বাস্তুদোষ তৈরি হতে পারে। এছাড়া সস্তা ধূপকাঠিতে কৃত্রিম রাসায়নিক সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, যা পুজোর আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা ক্ষুণ্ণ করে। তবে বর্তমানে বাজারে বাঁশহীন বা খাঁটি চন্দন ও ফুলের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি ভেষজ ধূপকাঠিও পাওয়া যায়, যা ব্যবহারে কোনও শাস্ত্রীয় বাধা নেই।

যেখানে ধুনো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উৎস থেকে সরাসরি সংগৃহীত হয়, সেখানে সাধারণ ধূপকাঠিতে কয়লার গুঁড়ো, কৃত্রিম আঠা ও কেমিক্যালের মিশ্রণ থাকে। তাই শুদ্ধতার বিচারে ধুনো সবসময়ই এগিয়ে।

শুধু শাস্ত্রীয় বিশ্বাসই নয়, বিজ্ঞানও ধুনোর ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করে। খাঁটি ধুনো পুড়লে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তা বাতাসে ভেসে বেড়ানো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ধ্বংস করতে এবং মশা-মাছি তাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী। এর সুগন্ধ মস্তিস্কের ক্লান্তি দূর করে মনকে শান্ত ও একাগ্র হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সস্তা ও রাসায়নিকযুক্ত ধূপকাঠির ধোঁয়া নিয়মিত ফুসফুসে প্রবেশ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

শাস্ত্রের মূল কথা হলো, ঈশ্বর বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে ভক্তের অন্তরের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও শুদ্ধ মনেই সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন। তবে উপচারের শুদ্ধতা এবং শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধের দিক থেকে বিচার করলে ধূপকাঠির চেয়ে ধুনোর স্থান অনেক উঁচুতে। তাই সম্ভব হলে নিত্যপুজোয় বা বিশেষ তিথিতে ধুনো ব্যবহার করাই শ্রেয়। আর যদি সময়ের অভাবে ধূপকাঠি ব্যবহার করতেই হয়, তবে খেয়াল রাখা উচিত সেটি যেন বাঁশহীন (Bamboo-free) এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক ধূপকাঠি হয়। এতে শাস্ত্রের নিয়মও রক্ষা পাবে, আর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যও থাকবে সুরক্ষিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *