বিয়ে আছে, ‘সেক্সুয়াল লাইফ’ নেই! জানেন কী এই ‘ল্যাভেন্ডার ম্যারেজ’?
‘যা সিমরন, যা, জি লে আপনি জিন্দগি!’— নাইনটিজ়ের কাল্ট বলিউড ফিল্ম ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপ আজ জেন জ়ি-দেরও মনে গেঁথে রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সমাজ যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে ভালোবাসা এবং সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গিও। সিমরনদের অনেকেই এখন উভকামী অথবা বাইসেক্সুয়াল। একসময় যে সম্পর্কগুলোকে সমাজের চোখে অস্বাভাবিক বলে মনে করা হতো, আজ সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়াটাই রীতি। তাই আজ যদি জ্যাকের সঙ্গে জল তুলতে জিলের বদলে জনি যায়, সমাজের একাংশ হয়তো এখনও ভ্রু কুঁচকাবে, কিন্তু সিনেমা, সাহিত্য এবং বাস্তব জীবন ক্রমশ এই আপাত নতুন সম্পর্কগুলোকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘ল্যাভেন্ডার ম্যারেজ’।
বলিউড সিনেমা ‘শুভ মঙ্গল জ়াদা সাবধান’-এর কথা ধরা যাক। দুই তরুণের প্রেম, সামাজিক লড়াই এবং পরিবারের জেদের গল্প আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বাস্তবটা দেখিয়েছিল। যেখানে একজন সমকামী মানুষকে জোর করে বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই জোর খাটাতে গিয়েই জন্ম নেয় ‘ল্যাভেন্ডার ম্যারেজ’-এর মতো ধারণা। যেখানে সমাজকে দেখানোর জন্য একজন সমকামী পুরুষ ও একজন সমকামী বা রূপান্তরকামী নারী এক ছাদের তলায় আসেন।
কী এই ল্যাভেন্ডার ম্যারেজ?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ল্যাভেন্ডার ম্যারেজ এমন এক ধরনের বিয়ে, যেখানে স্বামী বা স্ত্রী— কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই দু’জনেই— সমকামী বা উভকামী হন। কখনও কখনও একজন সমকামী পুরুষ এবং একজন সমকামী বা রূপান্তরকামী নারী পারিবারিক চাপে সমাজকে খুশি করতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে এই ধারণা নতুন নয়। ১৯২০-এর দশকে হলিউডে এর প্রচলন দেখা যায়। সেই সময় সমকামিতা প্রকাশ্যে স্বীকার করলে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কেরিয়ার বিপদের মুখে পড়ত। ফলে স্টুডিয়ো এবং প্রযোজনা সংস্থাগুলি অনেক সময় এমন বিবাহের ব্যবস্থা করত, যাতে সমাজের সামনে একটি ‘স্বাভাবিক’ পারিবারিক ছবি তুলে ধরা যায়।
আজও বিশ্বের নানা প্রান্তে পরিবার, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, সামাজিক চাপ কিংবা আইনি জটিলতার কারণে কেউ কেউ এই ধরনের বিবাহের পথ বেছে নেন। তবে এই সম্পর্কের ভিত্তি সাধারণত প্রচলিত কোনও রোমান্টিক বা যৌন সম্পর্ক নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া, নিরাপত্তা, বন্ধুত্ব এবং সম্মানের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।