নদীয়ায় রেস্তোরাঁর সামনে বোমাবাজি ও গুলি, গুরুতর জখম ব্যবসায়ী
চাপরায় রেস্তোরাঁর সামনে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমাবাজির অভিযোগ। গুরুতর আহত শামসুল শেখ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কৃষ্ণনগর: রাতের অন্ধকারে রেস্তোরাঁর সামনে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং বোমাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার (Nadia) চাপড়া থানার বড় আন্দুলিয়া এলাকায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম শামসুল শেখ (Shamsul Sheikh)। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর বলে জানা গিয়েছে।
রেস্তোরাঁর সামনে হামলার অভিযোগ
পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে বড় আন্দুলিয়া পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শামসুল শেখ। সেই সময় আচমকাই রেস্তোরাঁর সামনে শুরু হয় বোমাবাজি।
অভিযোগ, শামসুল শেখকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। এরপর একের পর এক বোমা ফাটানো হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি।
পরিবারের দাবি, গুলি তাঁর গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেলেও বোমার আঘাতেই গুরুতরভাবে আহত হন শামসুল শেখ।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
ঘটনার পর স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে (Chapra Rural Hospital) নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলের আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজ্য পুলিশের (West Bengal Police) বিশাল বাহিনী এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্তে নেমেছে।
ফের প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনা থামেনি।
নদীয়ার চাপরা এলাকায় এই হামলার ঘটনায় ফের রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।