জেন জ়ি ও নয়া দুনিয়ার লড়াই, বড় সুখের সময় নয়
মৈনাক ভট্টাচার্য
আমাদের ঘরের সেই সব সন্তানেরা, যাদের জেন জ়ি এবং এন্ড মিলেনিয়ালস বলা হয়, তারা কিন্তু এখন অনেক স্বাবলম্বী। পড়াশোনা থেকে চাকরি, সবাই যেন নির্দ্বিধায় ঋগ্বেদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণের সেই ‘চরৈবেতি’ মন্ত্রে দীক্ষিত। কেরিয়ারের তাগিদে ওরা নিজেরাই হিল্লিদিল্লি করতে জানে। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, চা-বলয়, খনি অঞ্চল থেকে উঠে এসেও ওরা অবলীলায় মানিয়ে নিতে জানে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের মতো আবহাওয়ায়। কেউ কেউ আবার ইউরোপ বা আমেরিকায়। সিদ্ধান্তের জন্য সেকেলে বাবা-মায়ের চেয়ে কথায়-কথায় চ্যাটবট-এর উপরই তারা বেশি আস্থাশীল।
এই সব দেখলে মনে হয়, ‘আ রোলিং স্টোন গ্যাদার্স নো মস’ প্রবাদটা যেন পাঁচ শতকের ফেরারি সময়কে টুঁটি চেপে ধরে বলছে— ‘না হে ভায়া, এই প্রবচনের অর্থ এখন আর তেমনটি ঠিক নয় যে, এক জায়গায় স্থির না থাকলে জীবনে কোনও সম্পদ, স্থায়িত্ব বা সাফল্য অর্জন করা যায় না, বরং সর্বদা চলমান বা সক্রিয় থাকো, দেখবে জীবনে জং ধরার কোনও অবকাশই নেই। স্বাধীনতার লড়াই এবং দেশভাগ-পরবর্তী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠে এদের অভিভাবকসম প্রজন্ম আপাত ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের মেধা থাকলেও তেমন সুযোগে ছিল না।
দায়বদ্ধতার ফাঁসে স্বপ্ন বাঁধা পড়তে পড়তে তখন বেশির ভাগ মানুষ তাই ছাপোষা কেরানি হয়ে দিব্যি বেঁচেবর্তে থাকত। বাবা-মায়ের চাওয়া-পাওয়াও তো ওইটুকুই, তাতে যদি আবার সরকারি ছাপ লেগে গেল, তো আত্মীয়-পরিজনের কাছে সাধপূরণের তৃপ্তিতে অন্নদামঙ্গল কাব্যের ঈশ্বরী পাটনীর সেই সন্তানকে দুধে-ভাতে রাখার প্রার্থনা টেনে কী খুশিই না হতো! সেই একদা দুধে-ভাতের কেরানিকুল ‘আমাদের সময়ে একটা ডিম সুতোয় কেটে দু’ভাগ করে দু’জনে খেতাম’ জাতীয় নানা গল্প আগলে, এই প্রজন্ম নিয়ে এখন মাঝে মাঝে আবার গসিপে মেতে ওঠে, ‘কী সুখেই না আছে ওরা!’