ডবল ইঞ্জিন সরকারের হকার উচ্ছেদ! হাতে ভিক্ষার বাটি নিয়ে প্রতিবাদ দমদমে - 24 Ghanta Bangla News
Home

ডবল ইঞ্জিন সরকারের হকার উচ্ছেদ! হাতে ভিক্ষার বাটি নিয়ে প্রতিবাদ দমদমে

Spread the love

কলকাতা: দমদম জংশন স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে। (Dum Dum Station)বিজেপি সরকারের হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও …

কলকাতা: দমদম জংশন স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে। (Dum Dum Station)বিজেপি সরকারের হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ। পূর্ব রেলের উদ্যোগে আরপিএফ, জিআরপি এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বহু হকারের দোকান ও অস্থায়ী স্টল ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই আবহেই দমদম স্টেশনের হকাররা হাতে ভিক্ষার বাটি নিয়ে ধর্নায় বসেছেন।

মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান ৩১ মে গভীর রাতেও চলতে থাকে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, দমদম জংশন দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশন। দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যাটফর্ম, প্রবেশপথ এবং সংযোগকারী রাস্তার বিভিন্ন অংশে বেআইনি দখল ও অনিয়ন্ত্রিত দোকানের কারণে যাত্রীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। নিরাপত্তা, যাত্রী পরিষেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

আরও দেখুনঃ গ্রহদের প্যারেড, শুক্র গ্রহকে ঢাকবে চাঁদ! জুন মাসে ঘটবে একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা

তবে হকারদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, কোনও কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই এক রাতের মধ্যে বহু পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করে সংসার চালানো মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চিন্তাভাবনা করা হয়নি বলেই তাঁদের দাবি। এই ক্ষোভ থেকেই উচ্ছেদ হওয়া হকাররা হাতে ভিক্ষার বাটি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতীকী প্রতিবাদে সামিল হন।

প্রতিবাদীদের বক্তব্য, তাঁরা ভিক্ষা করতে চান না, পরিশ্রম করে উপার্জন করতে চান। কিন্তু পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করে তাঁদের কার্যত ভিক্ষাবৃত্তির পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ভিক্ষার বাটি হাতে তাঁদের এই প্রতিবাদ দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক রংও লাগতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ অভিযোগ করেছে, গরিব ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে প্রশাসন শুধুমাত্র উচ্ছেদ নীতির উপর জোর দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, জীবিকা রক্ষার প্রশ্নে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত ছিল। অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের সমর্থকরা বলছেন, স্টেশন ও জনপরিসরের নিরাপত্তা এবং যাত্রী স্বার্থ রক্ষার জন্য বেআইনি দখলমুক্তকরণ জরুরি ছিল।

হকারদের সংগঠনগুলিও এই অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, হকাররা শুধুমাত্র ব্যবসায়ী নন, তাঁরা শহরের অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে প্রশাসনের একাংশের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান আইন মেনেই করা হয়েছে এবং যাত্রীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্টেশন এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

বর্তমানে দমদম স্টেশন চত্বরের পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিতর্ক, সামাজিক উদ্বেগ এবং জীবিকার প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসন কীভাবে উন্নয়ন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটিও আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *