রিকশায় গুল বিক্রি থেকে এলাকার ত্রাস, খোকনের বিরুদ্ধে মামলায় যুক্ত পুরোনো হামলার ধারাও - 24 Ghanta Bangla News
Home

রিকশায় গুল বিক্রি থেকে এলাকার ত্রাস, খোকনের বিরুদ্ধে মামলায় যুক্ত পুরোনো হামলার ধারাও

Spread the love

এই সময়, বর্ধমান: জীবনের শুরুটা এত মসৃণ ছিলো না প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের। অভাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। বাংলাদেশ থেকে এই দেশে এসেছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ। এমনও অনেক দিন গিয়েছে, যখন পেট ভরে খাওয়ার সুযোগও মেলেনি।

এর পরের পর্বে রয়েছে রিকশা ভ্যানে কয়লার গুল দিনের পর দিন ফেরি করে বেড়ানো। তার মধ্যেই কোনওক্রমে স্থানীয় স্কুলে অষ্টম শ্রেণি অবধি পড়াশোনা। পরে রথতলা মনোহরদাস বিদ্যানিকেতন থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন খোকন। তবে এলাকায় কান পাতলে এখনও শোনা যায়, কয়লার গুল বিক্রির সঙ্গে খোকন ও তাঁর‍ পরিবারের বেশ কিছু সদস্য লরির যন্ত্রাংশ বিক্রির কাজে নেমেছিলেন।। সেখান থেকেই উত্থান নতুন খোকনের।

এর পরে রাজনীতির ময়দানে আত্মপ্রকাশ। বাম জমানাতেই কাউন্সিলার হিসেবে বর্ধমান পুরসভায় পা রাখেন। সেই শুরু। ধীরে ধীরে সংগঠন তৈরি করেন এলাকায়। বাড়তে থাকে নিজস্ব প্রভাব এবং প্রতিপত্তি। সরকারি ভাবে খোকনের বৈধ সম্পত্তির পরিমাণ ১১ কোটি ১৯ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। উত্তরপ্রদেশ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই খবর পাওয়ার পরেই খোকনের এলাকা কাঞ্চননগরে ‘ডিজে’ বাজিয়ে উল্লাস করেন বিজেপির কর্মী–সমর্থকরা। এলাকার সাধারণ মানুষের ভিড়ই ছিল বেশি।

অভীক সাহা নামে এক বাসিন্দা বলছিলেন, ‘স্বনামে–বেনামে হাজার কোটি টাকার মালিক। আগে খোকন, ওর দাদা, ভাইপো লোহার স্ক্র্যাপ বিক্রি করত। সকালে কয়লার গুল বিক্রি করত, সন্ধ্যায় অন্য কিছু। এ ভাবেই টাকা করেছিল। এই এলাকায় অভাবী মানুষের থেকে জলের দরে জমি কিনেছে। অনেকেকে টাকা ধার দিয়েছে সুদে। পরে টাকা শোধ করতে না–পারলে সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়েছে নিজের নামে। পুরো পরিবার এ সবই করত। গরিবের চোখের জল বৃথা যায়নি, তাই আজ ওর এই অবস্থা।’

এলাকার অন্য এক বাসিন্দা বিক্রমকুমার পোদ্দার বলছেন, ‘এখানে ২০১১ থেকে খোকন সাক্ষাৎ ত্রাস হয়ে উঠেছিল। কত অত্যাচারের কথা বলব! তা তো বলে শেষ করা যাবে না। আজ আমরা মুক্তির স্বাদ পেয়েছি।’

সেখানেই থামছেন না বিক্রম। বলে চলেন, ‘লোক বলে, ও নাকি রথতলা এলাকার রূপকার। কিন্তু কী ভাবে তা হয়েছে, সেটা কি জানেন! এই এলাকা এবং আশপাশের লোকদের থেকে খুব কম দামে জমি কিনেছে। পরে কাউন্সিলার হয়ে এই এলাকা সাজিয়েছে। লাইট লাগিয়েছে। আর ১০-১২ হাজার টাকা কাঠায় কেনা জমিগুলো ৮-১০ লাখ টাকা কাঠায় বিক্রি করেছে। ওর মতো এমন বুদ্ধিমান শয়তান খুব কম আছে।’

উদয়পল্লির বাসিন্দা রাহুল সাহা বললেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখুন, নবাবহাট এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে কত একর জমি কিনেছে খোকন। জলা জমি বোজাতে, বর্ধমান শহরের পুরসভায় ড্রেন করার জন্য যত মাটি কেটেছে, সেগুলো সব ব্যবহার করা হয়েছে ওই পুকুর বোজাতে। এখন সাধু সাজছে। দিল্লি গিয়েছিল সেটিং করতে। সেটা পারেনি, এখন শ্রীঘরে ঢুকেছে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *