আবেগে ভেসেও পরিষেবায় গুরুত্ব মৌমিতার
এই সময়, মেমারি: পূর্ব বর্ধমান জেলা আবারও উঠে এল আলোচনায়। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় দু’জন প্রতিমন্ত্রী হলেন এই জেলা থেকে। তাঁরা হলেন মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং কলিতা মাজি।
বাম আমলে এই জেলা পেয়েছে পূর্ণমন্ত্রী। পরে রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় দায়িত্বে আসেন। মন্ত্রী হয়েছিলেন স্বপন দেবনাথ। রাজ্যে পালাবদলের পরে এই জেলা পূর্ণমন্ত্রী পায়নি ঠিকই, কিন্তু জোড়া প্রতিমন্ত্রী পেয়ে উল্লসিত সবাই। বিশেষ করে, খুশির হাওয়া বইছে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে। তাংরা মনে করছেন, বর্ধমান শহরবাসীর আশাকে রাজ্য সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।
বর্ধমান জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা মনে করছেন, ‘আমরা দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করব। মৌমিতা বর্ধমানের জন্য নিশ্চয়ই কাজ করবেন। উনি এখানকার মেয়ে, ফলে বাড়তি একটা আবেগ তো রয়েইছে।’ বর্ধমানের উল্লাসের বাসিন্দা সুকান্ত সাহা বলছেন, ‘উনি আমাদের এলাকার লোক, তাই আমরা গর্বিত। আশা করব এই এলাকাকে তিনি পুরসভার আওতায় নিয়ে আসবেন।’
জেলা সদর বর্ধমান শহর। পুরসভা এলাকা নিয়ে গঠিত বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা। এই কেন্দ্র থেকে এ বার জিতেছেন পেশায় আইনজীবী মৌমিতা। ২০২০–তে আইন পাশ করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা বিভাগে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা। এর আগে জেলা বিজেপির সভানেত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন সাংগঠনিক কাজে। এর আগে কোনওদিন নির্বাচনে অংশ নেননি। সেই অর্থে প্রথম বার জিতেই প্রতিমন্ত্রী।
বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘মন্ত্রিসভাকে শুধুমাত্র একটা শ্রেণির মধ্যে আবদ্ধ না–রেখে রাজ্যের সমস্ত জেলা ও সব সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার ক্ষেত্রে দু’জন মহিলা জনপ্রতিনিধিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া আসলে এই জেলাকে গুরুত্ব দেওয়া। আগামিদিনে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন হলে এই জেলা থেকেও কেউ পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন।’
যাঁকে ঘিরে এত উচ্ছ্বাস, সেই মৌমিতা বললেন, ‘অত্যন্ত আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার মন্ত্র নিয়ে লড়াই করেছিলাম। তাঁদের আশীর্বাদ পেয়েছি। আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সর্বস্তরে মানুষের পরিষেবা পৌঁছে যাবে।’