ISL অন্ধকারে! অনিশ্চিত ১৫০ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ - 24 Ghanta Bangla News
Home

ISL অন্ধকারে! অনিশ্চিত ১৫০ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ

Spread the love

এআইএফএফ ও ক্লাবগুলির মতবিরোধে অনিশ্চিত আইএসএলের (ISL) ভবিষ্যৎ। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় প্রায় ১৫০ ফুটবলার।

কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে ফুটবলারদের উপর। বিভিন্ন আইএসএল ক্লাবের প্রায় ১৫০ জন ফুটবলারের চুক্তির মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান বা সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা ২০ জনেরও বেশি ফুটবলার রয়েছেন। ফলে নতুন মরশুমের আগে তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।

গত রবিবার বহু ফুটবলারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সাধারণত নতুন মরশুম শুরুর আগে ক্লাব ও খেলোয়াড়দের মধ্যে চুক্তি নবীকরণ বা নতুন চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এবং আইএসএল ক্লাবগুলির মধ্যে চলমান মতবিরোধের কারণে আগামী মরশুমের লিগ কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তার জেরেই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে।

২০২৫-২৬ মরশুমও স্বাভাবিকভাবে আয়োজন করা যায়নি। এআইএফএফ এবং তাদের প্রাক্তন বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট (এমআরএ)-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর লিগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে পূর্ণাঙ্গ হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ফরম্যাটের বদলে ১৪টি দলকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত লিগ আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মরশুম শেষ হওয়ার পর এখন বহু ফুটবলার ‘ফ্রি এজেন্ট’-এ পরিণত হয়েছেন। অর্থাৎ তাঁরা যে কোনও ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে পারবেন। এআইএফএফ আগামী ১২ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ফুটবলার নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

যাঁদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের অধিনায়ক সন্দেশ ঝিঙ্গান এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রাহুল ভেকে। দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এমন অনেক প্রতিষ্ঠিত ফুটবলারও বর্তমানে একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে আইএসএলের অন্যতম বড় ক্লাব মোহনবাগান সুপার জায়ান্টও নতুন মরশুম নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে চাইছে। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা এআইএফএফ-এর কাছে জানতে চাইবে আগামী মরশুম পূর্ণাঙ্গ হবে নাকি আগের বারের মতো সংক্ষিপ্ত আকারে আয়োজিত হবে। সেই উত্তর পাওয়ার পরই ক্লাব তাদের বাজেট নির্ধারণ করবে এবং নতুন ফুটবলার সই করানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ প্রতিযোগিতার ধরন ও সময়সীমার উপরই নির্ভর করছে ক্লাবগুলির আর্থিক পরিকল্পনা।

মোহনবাগান ইতিমধ্যেই কয়েকজন বিদেশি ফুটবলারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটছে। টম অ্যালড্রেড, দিমিত্রি পেত্রাতোস এবং জেসন কামিন্সকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে দল গঠনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

ফুটবল মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেলোয়াড়রা। কারণ তাঁরা এখন ফ্রি এজেন্ট হওয়ায় আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই। স্বাভাবিক অবস্থায় কোনও ফুটবলার ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে উচ্চ পারিশ্রমিক দাবি করতে পারেন। কিন্তু বর্তমান অনিশ্চয়তার বাজারে ক্লাবগুলি কম অর্থে চুক্তি করার চেষ্টা করবে। ফলে খেলোয়াড়দের দরকষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

সমস্যার মূল কারণ নতুন বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ। আইএসএল ক্লাবগুলি লিগের আর্থিক স্বার্থের বড় অংশ নিজেদের হাতে রাখতে চায়, অন্যদিকে এআইএফএফও নিজেদের অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী। এই নিয়ে গত মাসে কলকাতায় ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে এআইএফএফ কর্তাদের বৈঠক হলেও কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি।

তবে বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এআইএফএফ-এর এক্সিকিউটিভ কমিটি নতুন মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর সাধারণ সভার অনুমোদনের ভিত্তিতেই নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আইএসএলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগ এবং তার সঙ্গে জড়িত শতাধিক ফুটবলারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *