Heatwave Death: একদিনে ৩,৪০০, পাঁচ দিনে ৩০ হাজার! তীব্র তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান | India's Deadly Heatwave Crisis: 3,400 Deaths Possible in a Single Day, Says Study - 24 Ghanta Bangla News
Home

Heatwave Death: একদিনে ৩,৪০০, পাঁচ দিনে ৩০ হাজার! তীব্র তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান | India’s Deadly Heatwave Crisis: 3,400 Deaths Possible in a Single Day, Says Study

Spread the love

নয়া দিল্লি:  কোথাও ৪৭ ডিগ্রি, কোথাও ৪৫ ডিগ্রি। ভারতের একাধিক এলাকা তীব্র গরমে (Extreme Heat) পুড়ছে। তাপপ্রবাহ (Heatwave) চলছে। সবথেকে বড় উদ্বেগের বিষয় হল প্রতি বছরই অস্বাভাবিক হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। যদিও দেখা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই তা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়।

কী বলছে গবেষণা?

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভারতের বহু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ফলে চরম গরম ও তাপপ্রবাহের সমস্যা আবারও সামনে এসেছে। উদ্বেগের বিষয় হল, প্রতি বছর এই ধরনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ক্রমশ বেশি দেখা যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা যেন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ যে কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, সেটাই উঠে এসেছে ওই গবেষণায়। দেখা গিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে একদিনেই ৩ হাজারের বেশি মৃত্যু হতে পারে।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান

ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্ট অনুযায়ী, গবেষকরা ভারতের ১০টি শহরের পূর্ববর্তী গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারপর তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রয়োগ করে গবেষকরা দেখেছেন, সারা দেশে মাত্র একদিনের তীব্র তাপপ্রবাহেই অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আর যদি পাঁচ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলতে থাকে, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সরকারি পরিসংখ্যানে সবসময় সেই তথ্য থাকে না বলে অভিযোগ।

গত কয়েক বছরে ভারতে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা দুটোই বেড়েছে। ২০২৪ সালে রাজস্থানের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৫০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। দিল্লি-এনসিআর, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিতে জারি হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা। এ বছর আরেকটি বড় সমস্যা সামনে এসেছে। দিনের প্রচণ্ড গরমের পর সাধারণত রাতের দিকে কিছুটা স্বস্তি মেলে। কিন্তু শহুরে এলাকায় কংক্রিটের জঙ্গল সেই স্বস্তিও কেড়ে নিচ্ছে। সূর্য ডোবার পরও চারপাশের পরিবেশ গরম হয়ে থাকছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক,শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রবীণরা। কারণ তাঁরা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকেন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব তাঁদের উপর অনেক বেশি পড়ে।

কোথায় কত মৃত্য়ুর আশঙ্কা?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পাঁচ দিনের তাপপ্রবাহে শুধু উত্তরপ্রদেশেই ৮ হাজারেরও বেশি মানুষর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। আহমেদাবাদ, জয়পুর ও সুরাটের মতো শহরের বিভিন্ন জেলায় একদিনের তীব্র তাপপ্রবাহেই ২৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এছাড়াও গবেষণায় বলা হয়েছে, তুলনামূলকভাবে দরিদ্র ও কম জিডিপি-সম্পন্ন রাজ্যগুলি এই বিপর্যয়ের বেশি শিকার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হবে। গবেষণাতে দেখা গিয়েছে, চরম গরম শুধুমাত্র অস্বস্তির কারণ নয়। এটি দ্রুত একটি বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কটে পরিণত হচ্ছে, যার মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *