গাছতলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, দাবি উঠল পাকা ঘরের - 24 Ghanta Bangla News
Home

গাছতলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, দাবি উঠল পাকা ঘরের

Spread the love

এই সময়, চন্দ্রকোণা: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামের এক ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় ছাউনি বানিয়ে চলছিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। সেই ছাউনি ভেঙে পড়ায় জমির মালিক আর অনুমতি দেননি তাঁর জায়গায় অঙ্গনওয়াড়ি পরিচালনায়। সেই থেকে ভবঘুরের মতো গ্রামের বিভিন্ন আটচালায় অস্থায়ী ভাবে চলে আসছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি। কয়েক বছর ধরে সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ঠাঁই হয়েছে গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে খোলা আকাশের নীচে। সেখানেই গাছতলায় শিশুদের পঠনপাঠন চলে। এক কোণে ত্রিপল টাঙিয়ে গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের খাবার রান্না হয়। ছবিটা চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের জাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৬ নম্বর রানিগঞ্জ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের।

জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দৈনিক ৮০ জনের পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়। রয়েছেন একজন কর্মী ও একজন সহায়িকা বা রাঁধুনি। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। এমন পরিবেশে শিশুদের পঠনপাঠন ও খোলা জায়গায় খাবার রান্না করা কতটা স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এক অভিভাবিকা ডলি পাত্র বলেন, ‘ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে ভয় করে। সঙ্গে যে খাবার দেওয়া হয় সেটা খাওয়াতেও মন সায় দেয় না। কারণ, একে তো নিজস্ব ঘর নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোণে গাছের তলায় পড়ানো হচ্ছে বাচ্চাদের। সাপ বা অন্য কিছুর ভয় থাকে। তা ছাড়া যে জায়গায় রান্না হয় সেটা স্বাস্থ্যকর নয়। খাবারে কিছু পড়ে যদি বিষক্রিয়া হয়, সব সময় চিন্তায় থাকি। আগে অনেক বার সবাইকে জানিয়েও লাভ হয়নি। এখন সরকার পাল্টেছে। আশা করি এই সরকার স্থায়ী কোনও বন্দোবস্ত করবে।’

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী কল্পনা ঘোড়ই বলেন, ‘রোদ–জল উপেক্ষা করে এ ভাবেই আমাদের সেন্টার চালাতে হচ্ছে। খোলা আকাশের নীচে এ ভাবে বাচ্চাদের পড়াতে ভয় লাগে। রান্নার সময়ে যদি কোনও কিছু না পড়ে যায় সেদিকেও নজর রাখতে হয়। কিছু ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় তো আমাদের উপরেই এসে পড়বে। সামনেই বর্ষা। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সেন্টার খোলা হয় না।’

স্থানীয় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য অভিজিৎ ঘোড়ই বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত ভাবে পঞ্চায়েত, বিডিও থেকে সিডিপিও (চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার) অফিসে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু কেউ কোনও উদ্যোগ নেননি।আমাদের এখানে সরকারি যে খাস জমি রয়েছে, তাও চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ভবন তৈরি করতে চাইলে পঞ্চায়েত বা সিডিপিও দপ্তর করতে পারতো। রাজ্যে বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায়। পুনরায় ভবন তৈরির জন্য উদ্যোগ নেব আমরা।’ জাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উমাশংকর চৌধুরী বলেন, ‘এ নিয়ে পঞ্চায়েতে কেউ আবেদন জানিয়েছিল কি না আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তেমন হলে পঞ্চায়েতের থেকে জায়গা নিয়ে বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করা হবে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *