বন্দে মাতরম: কোথাও বাজল রেকর্ড, কোথাও গলা মেলাল পড়ুয়ারা
এই সময়: রাজ্যে পালাবদলের পরে নতুন সরকারের নির্দেশিকা ছিল, এ বার থেকে স্কুলগুলিতে প্রার্থনা সঙ্গীতে গাইতে হবে বঙ্কমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্’ সঙ্গীত। গ্রীষ্মের ছুটির পরে সোমবার থেকে খুলল স্কুল। নির্দেশ মেনে গাওয়া হলো সেই গান।
এখনও ঠিক মতো রপ্ত না–হলেও সরকারি নির্দেশ মেনে শিল্পাঞ্চলের স্কুলগুলিতে বন্দে মাতরম্ গাওয়া হলো। প্রায় সব স্কুলে রেকর্ডে বাজানো হয় এই গান। পড়ুয়াদের সঙ্গে সেই গানে গলা মেলান শিক্ষক–শিক্ষিকারা। তবে সমস্যা হয়েছে সংস্কৃত উচ্চারণে। বড় বড় শব্দ মনে রাখা খুবই কঠিন।
এ দিন আসানসোল রহমানিয়া উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে পড়ুয়ারা লাইনে দাঁড়িয়ে বন্দে মারতম্ গেয়েছে। গান বেজেছে রেকর্ডে। স্কুলের টিচার ইন–চার্জ এসএম সাইদ হুসেন বলেন, ‘সরকারি নির্দেশ মেনেছি। পড়ুয়ারা এখনও ঠিক মতো গাইতে পারছে না। তবে চেষ্টা করছে।’ আসানসোলের তুলসীরানি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালি মিত্র জানান, পড়ুয়াদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গানের লেখা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে যেমন তা মুখস্থ করেছে, তেমনই অনেকে তা ঠিক মতো রপ্ত করতে পারেনি। তবে গানের শিক্ষিকা প্রত্যেকটি ক্লাসের পড়ুয়াদের সেই গান শেখাচ্ছেন।
বারাবনির পুঁচরা ভগবানদাস জৈন হাই স্কুলে হয়েছে বন্দে মাতরম্। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ উপাধ্যায় বলেন, ‘রেকর্ড চালিয়ে গান হয়েছে। প্রত্যেককে গানের লেখা ছাপা অক্ষরে দেওয়া হয়েছে। তা মুখস্থ করতে বলা হয়েছ।’ দুর্গাপুরে এ দিন প্রায় সব স্কুলে বন্দে মাতরম্ গাওয়া হয়েছে। অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষক প্রস্তুত হয়ে এসেছিলেন। পড়ুয়ারা লাইনে দাঁড়িয়ে সেই গান গেয়েছে। জেমুয়া ভাদুবালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জইনুল হক বলেন, ‘আমরা তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। এ দিন স্কুলে বন্দে মাতরম্ গাওয়া হয়েছে।’ এ দিন পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিভিন্ন স্কুলে গাওয়া হয়েছে বন্দে মাতরম্। নিবেদিতা কন্যা বালিকা বিদ্যালয়ে এদিন গিয়েছিলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবব্রত পাল। তিনিও পড়ুয়াদের সঙ্গে গলা মেলান।
প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা কোনার বলেন, ‘ডিআই স্যারের উপস্থিতিতে বন্দে মাতরম্ গান গেয়েছি।’ তালিত গৌড়েশ্বর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিখিলকুমার খান বলেন, ‘প্রথম দিন বলে ছাত্রছাত্রীরা স্তোত্র মুখস্থ করতে পারেনি। তবে দ্রুত বিষয়টা রপ্ত করে নেবে।’ রথতলা মনোহর দাস বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্কুলের গ্রুপে আগেই গানের কথা লিরিক দিয়ে দিয়েছিলাম। আজ মাইকে গান বাজানো হয়। সবার গানের কথা মুখস্থ হলে নিজেরাই গাইবে।’ প্রস্তুতি না–থাকার কারণে এ দিন বাঁকুড়ার পখন্না উচ্চ বিদ্যালয়ে গাওয়া হয়নি বন্দে মাতরম্ গান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশিসকুমার ঘোষ জানান, বড় গান বলে অনেক পড়ুয়া তা মুখস্থ করে উঠতে পারেনি। তবে ধীরে ধীরে সবাই এই গান গাইবে। ঘুটগোড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষিকা নীতা ঘোষ জানান, তিনি পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের তৈরি রেখেছিলেন। তারাই প্রার্থনা সঙ্গীতের সময়ে সামনের সারিতে ছিল। সবাই এই গান গেয়েছে। পুরুলিয়া শহরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বন্দেমাতরম গানটির কথা ছাত্রীদের দিয়েছিলাম। অনেকে গেয়েছে। ধীরে ধীরে সবাই এই গান গাইবে।’
(তথ্যসূত্র: সুশান্ত বণিক, রূপক মজুমদার, সঞ্জয় দে, বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, সূর্যকান্ত কুমার, মোহিত দাস এবং দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)