রহস্যের জালে চমক থাকলেও রয়েছে অপূর্ণতা
আরাত্রিকা দে
রহস্য, প্রতিশোধ এবং ধর্মীয় ভণ্ডামির আবরণে লুকিয়ে থাকা অপরাধ— এই তিন উপাদানকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ওয়েব সিরিজ় ‘দেবী’। এক নবাগত অভিনেত্রী স্নেহার রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া দিয়ে গল্পের সূচনা। পুলিশের তদন্ত যখন কার্যত অচলাবস্থায়, তখন এক মহিলা কনস্টেবল নিজস্ব বুদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার জোরে সত্যের খোঁজে নামেন। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে প্রতারণা, গোপন ষড়যন্ত্র এবং প্রতিশোধের জটিল সমীকরণ।
সিরিজ়টির সবথেকে বড় শক্তি এর গল্পের ভিত্তি। শুরু থেকেই রহস্যের আবহ দর্শকদের আগ্রহী করে রাখে এবং পর্বে-পর্বে নতুন তথ্য গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে চিত্রনাট্য সব সময়ে সেই উত্তেজনা ধরে রাখতে পারেনি। কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয় ভাবে দীর্ঘ মনে হয়, আবার ঘটনাক্রমের কয়েকটি মোড় আগে-ভাগেই অনুমান করা যায়। ফলে টানটান থ্রিলার হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী গল্পটিকে বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অযথা নাটকীয়তার পথে না গিয়ে তিনি চরিত্র এবং ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যদিও আবেগঘন কয়েকটি মুহূর্ত আরও গভীর ভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় হতে পারত। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সিরিজ়টি ভারসাম্যপূর্ণ। দেবীর চরিত্রে আভেরি সিংহ রায় সংযত ও বিশ্বাসযোগ্য। একজন তদন্তকারীর দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাস তিনি স্বাভাবিক ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আধ্যাত্মিক গুরু হেমন্ত মহারাজের চরিত্রও গল্পের অন্যতম আকর্ষণ। ভদ্র ও সম্মানিত মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় সত্তাকে অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরেছেন।

অম্লান মজুমদার এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য নিজেদের চরিত্রে যথাযথ। বিশেষ করে অনির্বাণ ভট্টাচার্য সীমিত উপস্থিতিতেও নজর কাড়েন। সাগরিকা রায় ও দেবীপ্রিয়া সরকার আবেগঘন দৃশ্যগুলিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। পার্শ্বচরিত্রগুলিও গল্পের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। চিত্রগ্রহণ সিরিজ়টির অন্যতম ইতিবাচক দিক। কিছু ফ্রেম ও ভিজ্যুয়াল রহস্যঘন পরিবেশ তৈরি করতে সফল। আবহসঙ্গীত গল্পের মেজাজের সঙ্গে মানানসই হলেও কোথাও-কোথাও তা কিছুটা বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হয়। সম্পাদনা মোটের উপর ঝরঝরে, যদিও কয়েকটি পর্ব আরও সংক্ষিপ্ত হলে গতি বাড়ত। সব মিলিয়ে ‘দেবী’ এমন একটি সিরিজ়, যা শেষ পর্যন্ত দর্শকের কৌতূহল ধরে রাখতে সক্ষম। গল্পে চমক রয়েছে, অভিনয়ে আন্তরিকতা আছে, তবে অসাধারণ কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে বসলে খানিকটা হতাশ হতে পারেন। রহস্যপ্রেমীদের জন্য একবার দেখা যেতে পারে, তবে প্রত্যাশার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখাই ভালো।