Sayani Chakraborty death: সায়নীর সঙ্গে প্রেমিক কী করেছিলেন, জানালেন মা মলি চক্রবর্তী | Mogra Vlogger Sayani Chakraborty Demise: Mother Molee Chakraborty Accuses Boyfriend of Severe Harassment
অবশেষে মেয়ের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন মা মলি চক্রবর্তী।
সায়নী চক্রবর্তী (Sayani Chakraborty), নেট দুনিয়ায় এই নামটা পরিচিত ছিল একগাল হাসি আর অবলা প্রাণীদের প্রতি একরাশ ভালোবাসার জন্য। কিন্তু সেই হাসিমুখের আড়ালে যে এতটা কষ্ট লুকিয়ে ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। মগরার গজঘণ্টা দেবনাথ পাড়ার বছর তেইশের এই ভ্লগারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে এখন শোকস্তব্ধ অনুগামীরা। গত বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী হন তিনি। কিন্তু কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন সায়নী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই উঠে আসছে তাঁর প্রেমিক সায়ন কুণ্ডুর নাম। মগরা থানায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতার পরিবার। অবশেষে মেয়ের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন মা মলি চক্রবর্তী।
সায়নীর ভিডিয়োগুলোতে নিয়মিত দেখা মিলত প্রতিবেশী ও নিজের পোষ্যদের। গরু, কুকুর, বিড়াল, সবাইকে নিয়েই ছিল তাঁর জগৎ। সুন্দরী, আদুরী, শিবা আর পরীদের প্রিয় দিদি যে আর নেই, তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না অবলা প্রাণীগুলো। সায়নীর মা জানান, সায়নী চলে যাওয়ার পরদিন সকালে তারা এসে ভিড় জমায় সায়নীর বাড়ির ওঠোনে। তাঁদের দেখে আর কান্না ধরে রাখতে পারেনি মলি। কয়েক মাস আগেই শখ করে একটি বুলেট কিনেছিলেন সায়নী, সেই সাধের বাইকটি আজ উঠোনে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে। কিছুদিন আগেই তো এই বুলেট নিয়ে কলেজের কনভোকেশনে গিয়েছিলেন তিনি। তবে হঠাৎ কী এমন হল?
মলিদেবীর কথায়, গত চার বছর ধরে ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সায়নীর। দুই পরিবারই সেই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। মায়ের সঙ্গে মেয়ের ছিল একেবারে বন্ধুর মতো সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও মনের ভেতরের এই গভীর যন্ত্রণাটা লুকিয়ে গিয়েছিলেন সায়নী। বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগের দিন রাতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফেরেন। অভিযোগ, সেখানে তাঁর ওপর চূড়ান্ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
মলিদেবী জানান, গত কিছুদিন ধরে সায়নীকে এড়িয়ে চলছিল ওই যুবক এবং সম্পর্কটিকে অস্বীকার করতে শুরু করে। সে নিয়মিত মদ্যপান করত এবং গায়ে হাতও তুলত বলে অভিযোগ করেন মলি। এত অত্যাচার সহ্য করেও সায়নী বাড়িতে কখনও কিছু বুঝতে দেননি। তবে মোবাইল চ্যাট ঘেঁটে এই মানসিক যন্ত্রণার একাধিক প্রমাণ বা ক্লু মিলেছে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রেমিক ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক। মলিদেবীর আক্ষেপের সুর, “ওরা যদি দোষীই না হয়, তবে বাড়ি ছেড়ে পালাল কেন? শুধু মেয়ের বিচার চাই।” সমাজমাধ্যমে না জেনে কোনওরকম বিরূপ মন্তব্য না করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। হাসিখুশি মেয়েটার এমন মর্মান্তিক পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার ও নেটপাড়া।