ডিআরডিও-র সিদ্ধান্ত, অ্যাস্ট্রা এমকে২-এর জন্য বৃহৎ উৎপাদন নেটওয়ার্ক তৈরি করছে ভারত
ভারত এখন তার সবচেয়ে উন্নত দেশীয় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রের (Astra MK2) উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় …
ভারত এখন তার সবচেয়ে উন্নত দেশীয় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রের (Astra MK2) উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করবে। এখন পর্যন্ত অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রধানত ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড অর্থাৎ বিডিএল দ্বারা নির্মিত হয়ে আসছে, কিন্তু বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এর উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে চায়।
সূত্রমতে, ডিআরডিও অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য একটি বৃহৎ শিল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, যেখানে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর লক্ষ্য হলো প্রয়োজনে দ্রুত বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতগুলো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক যুদ্ধের জন্য শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, বরং বিপুল সংখ্যক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের নিরন্তর উৎপাদনও প্রয়োজন। এই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভারত এখন অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধকালীন ব্যাপক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- অস্ত্র হলো ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত দৃষ্টিসীমার বাইরের আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (BVRAAM)।
- এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অনেক দূর থেকে শত্রু যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
- অ্যাস্ট্রা এমকে১-এর পাল্লা আনুমানিক ১১০ কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়, যেখানে নতুন অ্যাস্ট্রা এমকে২-এর আঘাত হানার পাল্লা হবে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।
- এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ম্যাক ৪.৫ গতিতে, অর্থাৎ শব্দের গতির সাড়ে চার গুণ বেগে উড়তে পারে।
- এটি অত্যাধুনিক সিকার প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা দূর থেকে শত্রু বিমানকে শনাক্ত করতে এবং নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
- অ্যাস্ট্রা এমকে২-তে একটি ডুয়াল-পালস রকেট মোটর রয়েছে, যা এর পাল্লা ও প্রাণঘাতী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- এছাড়াও, এটি তীব্র ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মুখেও লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করতে পারে।
বর্তমানে, অস্ত্রা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজাস যুদ্ধবিমানেও যুক্ত করা হচ্ছে।
একবার ব্যাপক উৎপাদন শুরু হলে, ভারত শুধু তার নিজস্ব চাহিদা আরও দ্রুত মেটাতে সক্ষম হবে না, বরং বিদেশে অস্ত্রা ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির দিকেও একটি বড় পদক্ষেপ নেবে। ডিআরডিও-র এই পদক্ষেপটি কেবল ভারতের আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা নীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ভারতীয় বিমান বাহিনীর আকাশযুদ্ধের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে।