বিশ্বকাপ সম্প্রচারে এগিয়ে জি, কাটতে চলেছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা
ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বড় বড় সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি আগ্রহ না দেখানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে এবার সেই অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা …
ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বড় বড় সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি আগ্রহ না দেখানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে এবার সেই অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ জানিয়েছে, তারা ফিফার সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ফলে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিনটি দেশ—আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। সময়ের পার্থক্যের কারণে বেশিরভাগ ম্যাচই ভারতে গভীর রাতে সম্প্রচারিত হবে। সেই কারণেই অনেক সংস্থা এই প্রতিযোগিতার সম্প্রচার নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ দেখায়নি বলে মনে করা হচ্ছে। দর্শকসংখ্যা এবং বিজ্ঞাপনের বাজার নিয়ে সংশয় থাকায় বড় সম্প্রচারকারীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছে জি। সম্প্রতি ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস’ নামে নতুন একটি ক্রীড়া উদ্যোগের সূচনা করেছে তারা। সেই অনুষ্ঠানে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিফার সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। শুধু বিশ্বকাপ নয়, ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া সম্প্রচারের বাজারে বড় ভূমিকা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এই নতুন উদ্যোগের অধীনে চারটি ক্রীড়া চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মধ্যে দু’টি ইংরেজি এবং দু’টি হিন্দি ভাষায় সম্প্রচার করবে।
জি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধু ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কবাডি, বক্সিং, কুস্তির মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সংস্থার দাবি, ভারতে খেলাধুলার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে এবং দর্শকদের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই তারা বড় পরিসরে ক্রীড়া সম্প্রচারে বিনিয়োগ করতে চাইছে।
ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। জাতীয় দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও বিশ্বকাপের সময় দেশের ফুটবল উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো দলের ম্যাচ দেখার জন্য গভীর রাতেও লক্ষ লক্ষ দর্শক টিভির সামনে বসে থাকেন। সেই কারণেই বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে আগ্রহ বরাবরই থাকে।
ফিফা প্রথমে ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্বের মূল্য অনেক বেশি রেখেছিল। ভারতীয় বাজারের জন্য সেই মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এত বড় অঙ্কের কারণে কোনও সংস্থা শুরুতে আগ্রহ দেখায়নি। পরে ফিফা সেই মূল্য অনেকটাই কমিয়ে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নিয়ে আসে। তবুও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
এখন সব নজর জি এন্টারটেইনমেন্টের দিকে। তারা যদি শেষ পর্যন্ত সম্প্রচার স্বত্ব পেয়ে যায়, তাহলে ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচারের বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরাও স্বস্তি পাবেন, কারণ বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ দেখার রাস্তা তখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।