স্বাস্থ্য আধিকারিকের মৃত্যুতে অভিযুক্ত বিএমওএইচ, ক্ষোভ নার্সদের
অভিযোগ, তাঁর কথায় কর্ণপাত না করে বিএমওএইচ ঋদ্ধি চক্রবর্তী দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি নিজের ঘরে সায়ন্তনীকে দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং দুই আশাকর্মীর সামনে তাঁকে যথেষ্ট অপমান ও হেনস্থা করেন। আরও অভিযোগ, সায়ন্তনী ওই কাজ না করলে তাঁকে তা লিখিত জানাতে বলা হয়। কিন্তু লিখিত জানানোর জন্য বিএমওএইচের কাছে লিখিত নির্দেশ চান সায়ন্তনী। লিখিত নির্দেশ তো তাঁকে দেওয়াই হয় না, উল্টে তাঁকে বাধ্য করা হয়, লিখিত ভাবে তিনি সই করবেন না, তা জানাতে। সায়ন্তনীর পরিবারের অভিযোগ, কার্যক্ষেত্রে এই অপমান ও হেনস্থায় মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন স্বাস্থ্য আধিকারিক। তিনি ওই দিনই তাঁর পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বাড়িতে ফিরে রাতে কারও সঙ্গে কথা না বলে, খাওয়া-দাওয়া না করে শুয়ে পড়েন। তাঁর স্বামীও নিজের রাতের ডিউটি থাকায় বাড়ি ছিলেন না। সায়ন্তনীর শিশুকন্যা ছিল তাঁর মায়ের কাছে। পরের দিন ৯ মে ছিল সায়ন্তনীর জন্মদিন। তিনি সকালে দীর্ঘ সময় ঘুম থেকে না ওঠায়, পরিবারের লোকজন তাঁকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, তিনি অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীন। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন খুব নীচে নেমে যায় ও শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। এই অবস্থায় সায়ন্তনীকে দ্রুত জীবনদায়ী অ্যাম্বুল্যান্সে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু প্রায় একটানা ১৫ দিন চিকিৎসার পরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ক্রমেই তাঁর শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। রবিবার সায়ন্তনীর মৃত্যু ঘটে।