‘ব্রেকিং দ্য ফ্রেম’, বঙ্গের প্রথম অটিস্টিক মডেলকে নিয়ে তথ্যচিত্র - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘ব্রেকিং দ্য ফ্রেম’, বঙ্গের প্রথম অটিস্টিক মডেলকে নিয়ে তথ্যচিত্র

Spread the love

এই সময়: আদ্যন্ত একটা ছক ভাঙার গল্প। এবং সমাজকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল ‘ব্রেকিং দ্য ফ্রেম’!

আলো নিভতেই পর্দায় ভেসে উঠল এক তরুণের মুখ। তাঁর নীরব চোখজোড়ায় যেন লুকিয়ে ছিল বহু বছরের লড়াই, প্রত্যাখ্যান আর নিজেকে প্রমাণ করার অদম্য ইচ্ছে। তবে গল্পটা শুধু একজনের নয়, বরং সমাজের বহু অদেখা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম অটিস্টিক মডেল বৈদূর্য বক্সির জীবন ও যাপন নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘ব্রেকিং দ্য ফ্রেম: দ্য জার্নি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল্‌স ফার্স্ট অটিস্টিক মডেল’–এর সাম্প্রতিক বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে উঠে এল অটিজ়ম, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় প্রশ্ন।

পরিচালক সৌমেন দাসের তৈরি এই তথ্যচিত্র কেবল এক ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প তুলে ধরেনি। বরং তা দেখিয়েছে, সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে কী ভাবে সম্ভাবনাকে নতুন ভাবে দেখতে হয়। বৈদূর্যের মডেল হয়ে ওঠার পথচলায় ছিল অসংখ্য বাধা। কিন্তু সেই লড়াইয়ের মধ্যেই উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা— সীমাবদ্ধতা অনেক সময়ে মানুষের মধ্যে নয়, বরং তৈরি হয় সমাজের কাঠামো ও মানসিকতায়।

গত বুধবার, ২০ মে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনীর পরে আয়োজিত আলোচনাচক্রে শিক্ষাবিদ, অটিজ়ম বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সৃজনশীল জগতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে অটিজ়মকে একরৈখিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না–দেখে তাকে একটি ‘স্পেকট্রাম’ বা পরিসর হিসেবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ফ্যাশন, মিডিয়া এবং শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ‘নিউরো–ডাইভার্জেন্ট’ ব্যক্তিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে ওই আলোচনাচক্রে।

বৈদূর্যের মা, অটিজ়ম সচেতনতা কর্মী, ‘ডিউইশ ইনস্টিটিউট ফর স্পেশাল নিড্‌স’–এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অধিকর্তা সুমিত্রা পল বক্সি বলেন, ‘এই ছবি শুধু আমার ছেলের মডেল হয়ে ওঠার গল্প নয়। সমাজ যদি বিচারের জায়গায় বোঝাপড়াকে বেছে নেয় এবং বাদ দেওয়ার পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তির পথ অনুসরণ করে, তা হলে কী কী আপাত অসম্ভব শেষমেশ সম্ভব হয়ে উঠতে পারে, এ সবই দেখিয়েছে এই ছবি।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজ়ম নিয়ে শুধু সচেতনতা তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী পদক্ষেপেরও। কারণ অন্তর্ভুক্তি কোনও দয়া বা সুযোগ নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *