Ebola Virus: ফের বাদুরবাহিত রোগের সংক্রমণ! কী এই ইবোলা ভাইরাস? উপসর্গ জানুন - 24 Ghanta Bangla News
Home

Ebola Virus: ফের বাদুরবাহিত রোগের সংক্রমণ! কী এই ইবোলা ভাইরাস? উপসর্গ জানুন

Spread the love

আফ্রিকায় ফের মাথাচাড়া দিয়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization ইতিমধ্যেই গ্লোবাল হেল্থ এমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে। রোগের উৎস গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১০০ জনের। ইবোলায় আক্রান্তদের মৃত্যুহার গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি চিন্তায় ফেলছে দু’টি বিষয়। প্রথমত, এবার সংক্রমণ ছড়িয়েছে ইবোলা ভাইরাসের বুন্দিবুগিও প্রজাতি থেকে। উগান্ডার বুন্দিবুগিও জেলায় প্রথম এই স্ট্রেন শনাক্ত হয়েছিল বলেই এর নাম ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেন’। ইবোলার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এটিকে সবচেয়ে মারাত্মক বলে মনে করা হয়।

দ্বিতীয়ত, গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত কঙ্গোয় এই মুহূর্তে কার্যত দু’টি সরকার চলছে। একটি কিনশাসাভিত্তিক স্বীকৃত সরকার, অন্যটি গোমাভিত্তিক বিদ্রোহী সরকার। ফলে এত বড় সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে দেশটি কতটা কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।সংক্রমণের মূল কেন্দ্র কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশ। সেখান থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের রাজধানী কিনশাসাতেও রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে WHO।

১৯৭৬ সালে কঙ্গোর ইবোলা নদীর অববাহিকায় প্রথম এই রোগ শনাক্ত হয়েছিল। সেই নদীর নাম থেকেই রোগের নাম ‘ইবোলা’। ভাইরাসটির মূল বাহক বাদুড়। তবে বাদুড় নিজে অসুস্থ হয় না। বাদুড় থেকে বনের অন্যান্য প্রাণীর শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়। সেই সংক্রমিত প্রাণীর মাংস খেলে মানুষ আক্রান্ত হয়। আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় হরিণের মাংস থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

মানুষ থেকে মানুষেও দ্রুত ছড়াতে পারে ইবোলা। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, লালা, ঘাম এবং অন্যান্য দেহরস সংক্রমণের বাহক হিসেবে কাজ করে। তবে এই রোগ বায়ুবাহিত নয়। অর্থাৎ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ইবোলা ছড়ায় না। সংক্রমণের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রথমে জ্বর, শরীরে ব্যথা এবং চরম দুর্বলতা শুরু হয়। পরে বমি, ডায়রিয়া ও সারা শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। রোগের শেষ পর্যায়ে শরীর থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। লিভার ও কিডনি বিকল হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু হয়।

কঙ্গো ও উগান্ডার প্রতিবেশী মধ্য আফ্রিকার দেশগুলিকে ইতিমধ্যেই চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে হু জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও অতিমারির পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তাই আপাতত লকডাউন বা সীমান্ত বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবু যে কোনও সময় বিপদ বাড়তে পারে বলে সতর্ক থেকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *