বেলেঘাটায় দাগি তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের সঙ্গীকে বেধড়ক মার

কলকাতা: বেলেঘাটায় তৃণমূল নেতা তথা প্রোমোটার রাজু নস্করকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল সোমবার সকালে (Raju Naskar)। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কলকাতা পুরসভার ধারাবাহিক অভিযানের জেরে এবার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সরাসরি গিয়ে পড়ল তাঁর অফিসের সামনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাজু নস্করের এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীকে মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
– Advertisement –
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভা সম্প্রতি বেলেঘাটার একাধিক বেআইনি বহুতলের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান শুরু করেছে। অভিযোগ, এই নির্মাণগুলির সঙ্গে রাজু নস্করের নাম জড়িত। পুরসভার পক্ষ থেকে নতুন করে কয়েকটি ভবনে নোটিস ঝোলানোর পরই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। সোমবার সকাল থেকেই বহু মানুষ রাজু নস্করের অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বেআইনি প্রোমোটিং চালানো হয়েছে।
আরও দেখুনঃ তৃণমূলের ১৫ বছরের ব্যর্থতা ঢাকল ২১ দিনে! শেষ হল চিংড়িঘাটা মেট্রোর অসম্পূর্ন কাজ
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও অনেককে বৈধ দলিল বা প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হয়নি। এখন পুরসভা সেই বহুতলগুলিকে অবৈধ ঘোষণা করে ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ায় ফ্ল্যাট ক্রেতারা আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, জীবনের সমস্ত সঞ্চয় খরচ করে তাঁরা মাথা গোঁজার ঠাঁই কিনেছিলেন, অথচ এখন সেই বাড়ির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রাজু নস্করের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে। যদিও পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরে বিক্ষোভকারীরা রাজুর অফিসের সামনেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অফিসের কর্মীরা দ্রুত তালা ঝুলিয়ে সেখান থেকে সরে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন এলাকার কয়েকজন মহিলা বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, রাজু নস্কর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপটের সঙ্গে বেআইনি প্রোমোটিং চালিয়ে গিয়েছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এমনকি জমি দখলের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। কয়েকজনের বক্তব্য, “আমাদের জমি জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকায় গুন্ডাগিরি করে মানুষকে চুপ করিয়ে রাখা হত।”
রাজনৈতিকভাবেও এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তুঙ্গে। তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই কলকাতা পুরসভা অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে। বেলেঘাটার এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর অভিযানের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই এতদিন ধরে বেআইনি নির্মাণের রমরমা চলেছে। সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন, অথচ প্রশাসন দীর্ঘদিন চোখ বন্ধ করে ছিল। এখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় পুরসভা সক্রিয় হয়েছে বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।