এখনও যেন শোনা যায় চাবুকের শব্দ, কৃষকের বুকফাটা কান্না
বাঁকুড়ার বাসিন্দা ও ক্ষেত্রসমীক্ষক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, আঠারো শতক নাগাদ প্রথমে লাক্ষা, গালা, কার্পাস ও তসর ব্যবসা দিয়ে বাঁকুড়ায় কুঠি স্থাপন করে ইংরেজ কোম্পানি। পরে দামোদরের দক্ষিণ চর থেকে দ্বারকেশ্বরের দুই তীর, এমনকী জঙ্গলমহল জুড়ে শুরু হয় নীলের চাষ ও ব্যবসা। ধূর্ত কুঠিয়ালরা চাষিদের দাদন নিতে এবং রায়তি বা ইজারাদার হতে বাধ্য করতেন। জেলার সোনামুখী, পাত্রসায়র, ওন্দা, সিমলাপাল, রাইপুর, সারেঙ্গা, রানিবাঁধ, ইন্দপুর–সহ আরও অনেক জায়গায় গড়ে ওঠে নীলকুঠি। নীলকুঠির ডাঙা, ফাঁসিডাঙার মাঠ, সাহেববাঁধ আজও মনে করিয়ে দেয় বিভীষিকাময় অতীতকে। রানিবাঁধের ফাঁসিডাঙ্গার মাঠে একটা সময়ে চাষিকে নির্মম ভাবে হত্যা করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। সুকুমার মনে করেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাসের সংরক্ষণ জরুরি। নীল চাষ, ইংরেজ নীলকরদের শোষণ ও কৃষকদের বিদ্রোহের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসও লেখা দরকার।’