West Bengal BDO Recruitment Scam: প্রশান্ত, শানুরা কীভাবে হলেন বিডিও? তালিকায় আর কারা? | BDO Recruitment Scam in Bengal: How Did Prashant Barman and Shanu Bakshi Become Officers?
শানু বক্সি (বাঁদিকে), প্রশান্ত বর্মণ (ডানদিকে)Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: ১৯৫২ সালের ২ অক্টোবর ভারতে চালু হয়েছিল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের পদক্ষেপে রাজ্যের ব্লকে ব্লকে নিয়োগ হয়েছিলেন সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও-রা। ৭৪ বছর পর বাংলায় বিডিওদের একাংশের নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। প্রশান্ত বর্মণ, শানু বক্সিদের নাম উঠে আসছে। শূন্য পেয়েও প্রথম হওয়া যায় কীভাবে, সেই প্রশ্ন উঠছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, ৫০ থেকে ৬০ জন বিডিও ভুয়ো।
চর্চার কেন্দ্রে প্রশান্ত বর্মণ-
পাবলিশ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যে বিডিও নিয়োগ হয়। ২০১৮ সালে সেই নিয়োগে প্রশান্ত বর্মণের নাম ছিল সবার উপরে। অভিযোগ, তিনি সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। স্কোরশিটে প্রশান্ত বর্মণের নম্বর ছিল ৫৯১৯। এটা মনগড়া নম্বর। স্বজনপোষণের যাতে সুযোগ না থাকে, তাই এই নম্বর পরীক্ষকও জানতে পারেন না। এই স্কোরশিটেই দেখা যাচ্ছে, প্রশান্ত পেয়েছেন শূন্য়। পরবর্তীতে সেই নম্বরই বদলে হয় ১৬২। কোন জাদুমন্ত্রে? একাধিক অভিযোগ ওঠার পর প্রশান্তকে চিঠি দিয়েছিল পিএসসি। তাতে গরমিলের কথা উল্লেখ করা হয়। যার জেরে একাধিক মামলা হয়।
যার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল পিএসসি। যেখানে বলা হয়, মামলার রায় যতদিন না বেরোয়, ততদিন নিয়োগ হবে না। সল্টলেকে এক স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণ। আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও শানু বক্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ-
প্রশান্ত বর্মণের মতো বর্তমানে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও শানু বক্সির নামও জড়িয়েছে বিতর্কে। শানু বক্সিকে ‘সাদা খাতার’ বিডিও বলে উল্লেখ করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে শানু বক্সির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) সেই সব চ্যাটের প্রমাণ সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছেন।
এই নিয়ে বিডিও শানু বক্সি বলেন, “জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে ওই চ্যাট আমার কি না, সেটা তাঁকে প্রমাণ করতে হবে। এআই-র যুগে অনেক কিছু হচ্ছে। আমিও মেসেজগুলো পেয়েছি। যদি প্রমাণিত হয়, ওই মেসেজগুলি আমার সঙ্গে জাহাঙ্গির খানের মেসেজ, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যা পদক্ষেপ করা হবে, আমি মাথা পেতে নেব।”
বিডিও-র দায়িত্ব-
বিডিও-রা নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়নের দেখভালের দায়িত্বে থাকেন। পদাধিকার বলে তাঁরাই হন পঞ্চায়েত সমিতির কার্যনির্বাহী আধিকারিক। ব্লক স্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কমিটির চেয়ারম্যান পদ সামলাতে হয় তাঁকে। এছাড়াও ব্লক স্তরে ভূমি সংস্কার, মৎস্য, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, নারী ও শিশু কল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া-সহ একাধিক বিভাগে নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব সামলাতে হয় বিডিওকে। ফলে বিডিও নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি দলতন্ত্রের ভাইরাস ঢুকে পড়ে, তাহলে তা বাংলার জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলায় বিডিও নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “৫০ থেকে ৬০ জন বিডিও ভুয়ো। পিএসসি আমাকে নথি দিয়েছে। আমি ভুয়ো বিডিওদের চিহ্নিত করছি।” এখন দেখার, প্রশান্ত, শানুর পর আর কার কার নাম সামনে আসে।