বিয়ে নয়, উচ্চশিক্ষা অর্জনই লক্ষ্য শম্পার
এই সময়, মেদিনীপুর: অভাবের সংসারে তাড়াতাড়ি দিদির বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন মা-বাবা। এ বার কি তাঁর পালা? উচ্চমাধ্যমিকে ৮৬ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েও তাই উদ্বেগে রয়েছে শালবনির শম্পা প্রধান। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা-গবেষণা করতে চায় সে। কিন্তু সে-সব কি সম্ভব হবে?
শালবনির পাথরকুমকুমির গ্রামের বাসিন্দা শম্পা। বাবা নিশীথ প্রধান বিশেষভাবে সক্ষম। সামান্য জমি চাষ করে সংসার চালান। মা কাজল গৃহবধূ। শম্পা ছোট মেয়ে। পরিবারে অর্থসঙ্কট এতোটাই যে, বড় মেয়ের পড়া শেষ হওয়ার আগেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন। শম্পাও সেই ভয়টাই করছে। ভাদুতলা বিবেকানন্দ হাইস্কুল থেকে এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৩৩ পেয়ে পাশ করেছে। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, পরিবেশবিদ্যা এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিষয় ছিল উচ্চমাধ্যমিকে। ইংরেজিতে ৯৫, বাংলায় ৮৮, পরিবেশবিদ্যায় ৮২, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটিতে ৯৪ এবং ইতিহাসে ৭৪ পেয়েছে সে। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা করাই তার স্বপ্ন।
তার কথায়, ‘পরিবারের পক্ষে আর পড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয় বলেই মা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাহায্য না পেলে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে।’ কিন্তু এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে নারাজ শম্পা। বার বার সে বলে, ‘পড়তে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। যে কোনও ভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে।’ শম্পার এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ভাদুতলা বিবেকানন্দ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতেশ চৌধুরী বলেন, ‘খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে শম্পা অসাধারণ ফল করেছে। আমাদের স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পরেই শিক্ষকরা ওকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। আমরা চাই আগামী দিনে শম্পা আরও এগিয়ে যাক।’