চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য ও কারুকার্য, ইতিহাসে বুঁদ মধ্য এশিয়ার মায়াবী বুখারা - 24 Ghanta Bangla News
Home

চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য ও কারুকার্য, ইতিহাসে বুঁদ মধ্য এশিয়ার মায়াবী বুখারা

Spread the love

কৌশিক ভক্ত

শহরের কংক্রিটের জঙ্গল পেরিয়ে প্রান্তিক কোনও গ্রামে পৌঁছে যেতে পারলেই পাওয়া যায় অদ্ভুত এক শান্তি। যে কোনও দেশের আসল চেহারার হদিশ পেতে হলে সেখানের কোনও গ্রামে পৌঁছে যাওয়াই ভালো। উজ়বেকিস্তান সফরে সে জন্যই ক্ষীভা থেকে বুখারার পথ ধরেছিলাম আমরা। ট্রেনের বদলে সড়কপথে। সেই পথে কখনও মিলল রুক্ষ মরুপ্রান্ত, আবার কখনও কয়েক কিলোমিটার জুড়ে সবুজ আঙুরের খেত।

মাঝে গাড়ি থামিয়ে সদ্য বাগান থেকে তোলা তাজা তরমুজ কিনেও ফেলেছিলাম। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পৌঁছে গেলাম বুখারার গন্তব্যে। বুখারা, পুরোনো সিল্ক রুটের অঙ্গ মধ্য এশিয়ার এই প্রাচীন জনপদ। এক পক্ষের মতে, বুখারা নামটির আক্ষরিক মানে ‘সৌভাগ্যের শহর’। অন্য মতে এটি সংস্কৃত শব্দ ‘ভিহারা’ থেকে এসেছে, যার মানে ‘মঠ’। যেটা প্রবল ভাবে ঈঙ্গিত করে, ছোট শহরটি অতি প্রাচীন।

uzbekistan

জনপদটিতে দশম শতাব্দীর সমানিদ রাজবংশের নিদর্শন থেকে শুরু করে অষ্টাদশ শতাব্দীর হরনকারি মিনার দেখা যায়। শহরের অলি-গলিতে ঘুরতে-ঘুরতে মনে হতে পারে টাইম মেশিনে করে চলে এসেছেন মধ্যযুগে। প্রথম দিনে সন্ধের পরে পৌঁছে গিয়েছিলাম পো-ই কলিয়ান চত্বরে। সূর্য ডোবার পরে চারিদিকে জ্বলে ওঠা মায়াবী আলো দেখে আরব্য রজনীর কোনও ক্যানভাস স্মৃতিতে ভেসে উঠবে পারে। এ ছাড়া উলুঘ বেগ মাদ্রাসা, আব্দুল খান মাদ্রাসা থেকে নাসিরুদ্দিন চায়েখানার মতো জায়গা আলাদা এক আবহ তৈরি করে। স্থানীয়দের কথামতো পরের দিনে দুপুরের খাওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ল্যবি হৌজ়। দারুণ সুস্বাদু একাধিক খাওয়া-দাওয়া।

uzbekistan

এ ছাড়া বার্ডস আই ভিউতে পুরো বুখারা শহর দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম বুখারা দুর্গ থেকে। সবথেকে প্রাচীন সামানিধ মসজিদের কারুকার্জও ছিল চোখ-ধাঁধানো। পাশাপাশি আকর্ষণীয় একটা জায়গা ছিল চোর-মিনার। শোনা যায়, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী হায়দরাবাদের চারমিনারের আদলে এটি তৈরি করেছিলেন। জানিয়ে রাখা ভালো, সবকটি মিনার বা মাদ্রাসা খুব কাছাকাছি অবস্থিত এবং কেউ চাইলে টুকটুক ভাড়া করেও ঘুরে নিতে পারে। পাশাপাশি তাড়া দেওয়ার কেউ নেই। তাই আরাম করে ঘুরে দেখা থেকে ছবি তোলা সব সুযোগই থাকবে। একটু দূরের কোথাও যেতে চাইলে স্থানীয় অ্যাপ ক্যাব ইয়ানডেক্স ফোনে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

ঘোরার পাশাপাশি আর একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। গ্রিন চাউমিন খেয়ে দেখতে ভুলবেন না। আহামরী না হলেও অন্য রকম লাগবে। সঙ্গে প্লেটে থাকতে পারে পিলাভ। উজ়বেকরা প্রচুর পরিমাণে সফ্ট ড্রিঙ্কস খেতে পছন্দ করেন। তাই কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকে সরবত, নানা রকমের পানীয় পাবেন। আর একাধিক দারুণ স্বাদের স্যালাড পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মনে থাকার মতো এক অভিজ্ঞতা।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে—

ভারতীয় মুদ্রায় ১ টাকার মূল্য উজ়বেক সোম-এ ১২৮। পাশাপাশি উজ়বেকিস্তানে সব কিছুই বেশ সস্তা

ভিসা পাওয়া সহজ। অনলাইনে আবেদনের চার-পাঁচ দিনেই পাওয়া যায়

স্থানীয়দের সংস্কৃতিকে সম্মান করুন। ট্রাফিক নিয়ম মানুন

যত্রতত্র নোংরা ফেলবেন না

উজ়বেকরা ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না, তাই ফোনে ট্রান্সলেটর রাখুন

ঘোরার সময়ে ছাতা, সানগ্লাস এবং টুপি সঙ্গে রাখুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *