Aditi Munshi Property Details: ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি? হলফনামায় কী জানিয়েছেন অদিতি? | Aditi Munshi Assets: What Did the Former MLA Declare in Her Election Affidavit?
হলফনামায় কী জানিয়েছেন অদিতি মুন্সি?Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: নির্বাচন কমিশনে তাঁর দাখিল করা হলফনামায় আয়ের সঠিক তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি। মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে অদিতি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর। এই পরিস্থিতিতে দেখে নেওয়া যাক, ছাব্বিশের নির্বাচনে হলফনামায় কী জানিয়েছিলেন অদিতি মুন্সি? অদিতি ও তাঁর স্বামীর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি কত?
গত ৫ অর্থবর্ষে অদিতি ও দেবরাজের আয় কত ছিল?
অদিতি একজন খ্যাতনামা কীর্তন শিল্পীও। তিনি নিজের হলফনামায় জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭১০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তাঁর আয় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ওই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৭ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৬০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৭ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬১০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় আরও বাড়ে। এই অর্থবর্ষে তাঁর ছিল ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৫৭ টাকা।
অদিতির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ। অদিতি তাঁর হলফনামায় স্বামীর আয়ের হিসেব দিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে দেবরাজের আয় ছিল ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ২৪০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৯ লক্ষ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে আয় কিছুটা বেড়ে হয় ১২ লক্ষ ১৭ হাজার ২২০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেবরাজের আয় ছিল ১৩ লক্ষ ২ হাজার ৮২০ টাকা। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেবরাজের আয় অনেকটাই বাড়ে। এই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২৪ লক্ষ ২১০ টাকা।
অদিতি ও দেবরাজের অস্থাবর সম্পত্তি-
অদিতি জানিয়েছেন, হলফনামা জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাতে ছিল নগদ ২ লক্ষ টাকা। আর দেবরাজের ছিল নগদ ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। অদিতির নামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁর কোনওটিতে রয়েছে ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮৮৫ টাকা। কোনওটিতে রয়েছে ২০ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৫০ টাকা। আবার কোনও অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮১৬ টাকা। অদিতির নামে একাধিক জীবনবিমা পলিসি রয়েছে।
দেবরাজের নামেও একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কোনওটিতে রয়েছে ৩ লক্ষ ৯২ হাজার ৫১২ টাকা। কোনও অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৭৫ টাকা।
অদিতির নামে ৩টি গাড়ি রয়েছে। ২০১৬ সালে ১৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪৫৩ টাকা একটি গাড়ি কিনেছিলেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৭ টাকা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ফরচুনার কিনেছিলেন ৩২ লক্ষ ৭৯ হাজার ২২২ টাকায়। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৮ টাকা। আর ২০২২ সালের জুনে ৩৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০০ টাকায় তৃতীয় গাড়িটি কেনেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২১ লক্ষ ৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। দেবরাজের নামে অবশ্য কোনও গাড়ি নেই।
অদিতির কাছে ৩৫০ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আর দেবরাজের কাছে রয়েছে ১৫০ গ্রাম সোনার গয়না। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
সবমিলিয়ে অদিতির অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৪২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৫৭ টাকা। আর দেবরাজের অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৩৪ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬১১ টাকার।
অদিতি ও দেবরাজের স্থাবর সম্পত্তি-
হলফনামায় অদিতি জানিয়েছেন, তাঁর ও দেবরাজের নামে কোনও কৃষিজমি নেই। দু’জনের নামেই অকৃষিজমি অবশ্য রয়েছে। ২০২২ সালের ২৫ মার্চ অদিতি ৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৫০ টাকায় অকৃষিজমিটি কিনেছিলেন। আর ২০২৩ সালের ১০ মে ৫৫ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা দিয়ে দেবরাজ অকৃষিজমি কিনেছিলেন।
নিজের বাসভবন নিয়ে হলফনামায় অদিতি জানিয়েছেন, তাঁর ও দেবরাজের নামে যৌথ মালিকানায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। অদিতির নামে থাকা ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য ২৯ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৩ টাকা। আবার দেবরাজের একার নামেও ফ্ল্যাট রয়েছে। দেবরাজের নামে থাকা ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৮২৫ টাকা।
তাঁর ৮ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯৭৯ টাকা ঋণ রয়েছে বলে হলফনামায় জানিয়েছেন অদিতি। সেখানে দেবরাজের নামে দুটি ঋণ রয়েছে। একটি ২০ লক্ষ টাকার। আর একটি ২৫ লক্ষ টাকার।
নিজের আয় উৎস হিসেবে অদিতি জানিয়েছেন, শিল্পী হিসেবে পারফর্ম ও বিধায়ক হিসেবে পাওয়া ভাতা তাঁর আয়ের উৎস। আর দেবরাজের আয়ের উৎস ব্যবসা ও বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ হিসেবে পাওয়া ভাতা।