প্যাকেজড ফুডের জেরেই বাড়ছে ওবেসিটি, কী কী থাকে ওই সব খাবারে? জানলে চমকে উঠবেন - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্যাকেজড ফুডের জেরেই বাড়ছে ওবেসিটি, কী কী থাকে ওই সব খাবারে? জানলে চমকে উঠবেন

Spread the love

‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালের সমীক্ষা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ওবেসিটি বিশ্বজুড়ে মহামারির আকার নেবে। ২০৫০-এ ভারতের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ ওবেসিটিতে ভুগবেন। বর্তমানেও ভারতে ওবেসিটির ছবিটা কম ভয়াবহ নয়। ১৯৯০ সালে ভারতে ওবেসিটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ। ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষে। চিকিৎসকদের মতে, স্থূলতা বা ওবেসিটির পিছনে দায়ী মাত্রারিতিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া প্রবণতা। বিশেষত প্যাকেটবন্দি খাবার খাওয়ার জেরেই বাড়ছে এই সমস্যা। এই প্যাকেটজাত খাবারগুলোতে আদতে কী থাকে? তার হদিশ দিল আর এক নতুন গবেষণা। 

বিস্কুট, সিরিয়াল থেকে ইনস্ট্যান্ট মিল, জুুস—ভারতের বেশিরভাগ প্যাকেটবন্দি খাবারে মিলেছে আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার ও প্রিজারভেটিভের হদিশ। দেশের ২৩,০০০-এরও বেশি খাদ্য ও পানীয় পণ্যের উপর চালানো একটি নতুন সমীক্ষায় উঠে এসে এই নতুন তথ্য। ‘NatFirst’ এবং তাদের কনজিউমার নিউট্রিশন প্ল্যাটফর্ম ‘TruthIn’ -এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই গবেষণায় AI-টুলের সাহায্যে ২৫টিরও বেশি ক্যাটাগরির প্যাকেটজাত খাবারের লেবেল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় কী দেখা গিয়েছে?

  • প্রায় ৮০%-এরও বেশি প্যাকেটবন্দি বিস্কুট এবং কুকিজের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার ও পাম অয়েল পাওয়া গিয়েছে।

  • সিরিয়ালের মতো যে খাবার ব্রেকফাস্টে খাওয়া যায়, তার ৬০-৭০% খাবারে আর্টিফিশিয়াল অ্যাডিটিভস রয়েছে। 

  • প্রায় ৮০% চিপস জাতীয় স্ন্যাকসে সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যধিক বেশি।

  • প্রায় ৮০% চকোলেট ও ডেসার্টে অতিরিক্ত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর।

  • প্রায় ৭৮% রেডি-টু-ড্রিঙ্ক এবং দুগ্ধজাত পানীয়তেও চিনির পরিমাণও অনেক বেশি।

  • প্রায় ৯৮% কার্বোনেটেড পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকসের আর্টিফিশিয়াল অ্যাডিটিভস রয়েছে।

  • প্রায় ৯০% ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং রেডি-টু-ইট খাবারে সোডিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি। 

  • প্রায় ৯৬%  রেডি-টু-ইট খাবারে মিলছে আর্টিফিশিয়াল অ্যাডিটিভস।

packaged food

এই ধরনের আল্ট্রা-প্রসেসড ফুডের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। প্রতি দিন অজস্র মানুষ এই ধরনের খাবার খান। যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। খুব কম মানুষই প্যাকেটের লেবেল পড়েন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (NIN)-এর একটি গবেষণা বলছে, ৭৫.৪% ক্রেতা প্যাকেটের লেবেল পড়ে খাবার কেনেন। কিন্তু মাত্র ১৪.৭% মানুষ উপাদানের তালিকা চেক করেন। বেশিরভাগ মানুষ খাবারের এক্সপায়ারি ডেট দেখেন। 

দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার খাওয়ার জেরেই বাড়ছে ওবেসিটি। মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়া, শর্করা, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার ডায়াবিটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সুতরাং, রোগের ঝুঁকি এড়াতে হলে বন্ধ করতে হবে এই ধরনের খাবার খাওয়া।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *