আসানসোল উত্তরে দুষ্কৃতীদের কাছ থেকেই থানা ভাঙার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পুলিশের - 24 Ghanta Bangla News
Home

আসানসোল উত্তরে দুষ্কৃতীদের কাছ থেকেই থানা ভাঙার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পুলিশের

Spread the love

আসানসোলের জাহাঙ্গীর মহল্লা এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার পর এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করল প্রশাসন। (Asansol)সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া …

আসানসোলের জাহাঙ্গীর মহল্লা এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার পর এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করল প্রশাসন। (Asansol)সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন জাহাঙ্গীর মহল্লা এলাকায় লাউডস্পিকার বাজানো এবং প্রকাশ্য স্থানে জমায়েত নিয়ে পুলিশি সতর্কতার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একদল উত্তেজিত মানুষ স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনাও সামনে আসে।

আরও দেখুনঃ টাকা নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে! জেলযাত্রার হুঁশিয়ারি

এই ঘটনায় আসানসোল উত্তর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২০৮/২৬। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার জানিয়েছেন, রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশিকা মেনেই এবার সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির টাকা অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট ১৯৭২-এর নির্দিষ্ট ধারার ভিত্তিতে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।”

পুলিশের দাবি, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে আইনি উপায়ে সেই অর্থ অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা যৌথ জরিমানার মাধ্যমে আদায় করা হতে পারে। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের মতে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে তার দায় অভিযুক্তদেরই নিতে হবে এবং প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু মানুষের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি এবং কোনও নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও প্রশাসনের নজর রাখা উচিত।

রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও পুলিশ কমিশনারেটের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকার ভিত্তিতে এখন অনেক ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীদের আর্থিকভাবে দায়বদ্ধ করার পথে হাঁটছে প্রশাসন।

আসানসোলের এই ঘটনায়ও সেই একই ধারা অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *