ওয়াকওভারের পরেই জাহাঙ্গীর 'রত্নাকরের' দায় নিতে অস্বীকার তৃণমূলের - 24 Ghanta Bangla News
Home

ওয়াকওভারের পরেই জাহাঙ্গীর ‘রত্নাকরের’ দায় নিতে অস্বীকার তৃণমূলের

Spread the love

ফলতা: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে আচমকাই চমক। (Jahangir Khan)ফলতায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে। রাজ্য …

ফলতা: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে আচমকাই চমক। (Jahangir Khan)ফলতায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে। রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। নিজেকে সম্প্রতি ‘পুষ্পা’ সিনেমার স্টাইলে “ঝুকেগা নেহি” বলে প্রচারে পরিচিত করা জাহাঙ্গীর খানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বিভিন্ন মহলে। সেই পরিস্থিতিতেই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি জারি করল তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)।

দল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, জাহাঙ্গীর খানের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক বা নীতিগত সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, দল কাউকে লড়াই থেকে সরে যেতে কোনো নির্দেশ দেয়নি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে দল কার্যত প্রার্থীর সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করল এবং একইসঙ্গে রাজনৈতিক বার্তাও দিল যে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দায় সংগঠন নেবে না। দলের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি একসময় জাহাঙ্গীরকে সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করেছে তৃণমূল এখন জাহাঙ্গীরের অবস্থা হয়েছে দস্যু রত্নাকরের মত। তার পাপের দায় আর কেউ নিতে চাইছে না।

আরও দেখুনঃ পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন ? কোন পথে লাল হলুদ কোচের ভাগ্য ?

বিবৃতিতে আরও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলা হয়েছে, যারা মাঠে নেমে দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন, তাঁদের মনোবল ভাঙার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। ফলতা বিধানসভা এলাকায় ভোট ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে দল। তাদের দাবি, এলাকায় ১০০-র বেশি দলীয় কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একাধিক দলীয় অফিসে ভাঙচুর ও দখল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বহু জায়গায় ভয় দেখিয়ে দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

তৃণমূল কংগ্রেস আরও দাবি করেছে, এই সব ঘটনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, এই নীরবতা মাঠপর্যায়ে তাদের কর্মীদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। ফলে অনেকেই চরম মানসিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে দলের ভেতরেও নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। একাংশের মতে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও নির্বাচনী আবহে এমন পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর সরে যাওয়া ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে তৃণমূল নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে দলের লড়াই থেমে যাবে না। বিবৃতিতে কড়া ভাষায় বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলা হয়েছে, “বাংলা বিরোধী শক্তির ভয় ও সন্ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াই চলবে।” দল আরও দাবি করেছে, এই লড়াই শুধু ফলতা বা পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় স্তরেও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে তৃণমূল একদিকে প্রার্থীর সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে আলাদা করেছে, অন্যদিকে মাঠের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে যে সংগঠন ভাঙবে না। তবে একইসঙ্গে এই ঘটনা বিরোধী শিবিরকে নতুন রাজনৈতিক ইস্যুও এনে দিয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *