‘ভারতে ব্যবসার অভিজ্ঞতা কেমন?’ নরওয়ের শিল্পপতিদের কাছ থেকে নিজেই শুনলেন মোদী, দিলেন বড় বার্তাও
ভারতে ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা কেমন? নরওয়ের শিল্পপতিদের মুখ থেকে অভিযোগ আর প্রশংসা দুই শুনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ভারত-নরওয়ে বিজ়নেস কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মনের কথা উজার করে দিলেন নরওয়ের শিল্পপতিরা। পাল্টা শিল্পের জন্য শ্রম আইন-সহ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে যে সংস্কার করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন মোদীও। জানান নতুন করনীতির কথাও।
অসলো সিটি হলে ‘নরওয়ে-ইন্ডিয়া বিজ়নেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যোগ দেন মোদী। উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের বড় বড় সংস্থার কর্ণধাররা। তাদের মধ্যে ওরকলা, ইয়ারা ও ইকুইনরের মতো সংস্থা অন্যতম। ভারতে বড় ব্যবসাও রয়েছে তাঁদের।
সামিটের শুরুতেই শিল্পপতিদের ভারতে ব্যবসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন স্টোর। তখনই প্রশাসনিক জটিলতার কথা তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার প্রস্তুতকারী সংস্থা ইয়ারা-র সিইও সভেইন টোরে হোলসেথার। ২০১৮ সালে টাটা কেমিক্যালসের কাছ থেকে উত্তরপ্রদেশের বাবরালার সার কারখানা কিনে নিয়েছিল তারা। হোলসেথার বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে সার উৎপাদনের অনুমোদন পেতে অনেক সময় লাগে।’ উত্তরপ্রদেশে ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য দিকে, ভারত ও ইউরোপের মধ্যে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন ওরকলার কর্তা নিলস কে সেলতে। তাঁর কথায়, ‘এর ফলে ব্যবসা করা অনেক সহজ হবে। অনিশ্চয়তা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োদের সুবিধা হবে।’ জ্বালানি সংস্থা ইকুইনর সিইও আন্দের্স ওপেডাল আবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মাঝে তাঁদের সংস্থা কী ভাবে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে, সেই কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ টন এলপিজি এবং ২ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করছি আমরা। দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহের কাজও শুরু হচ্ছে।’
সবার কথা মন দিয়ে শোনেন মোদী। তার পরে করব্যবস্থা, শ্রম আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন নরওয়ের শিল্পপতিদের সামনে। তিনি বলেন, ‘নেক্সট জেনারেশন রিফর্মস আনা হয়েছে। নরওয়ের জন্য ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’-র মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ডেস্কও তৈরি করেছে কেন্দ্র।’ নরওয়ের শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদীর স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করুন। আমি আপনাদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে।’
২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সবিস্তারে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যতে নরওয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।’ একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও নরওয়েকে ভারতের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে নরওয়ের ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে তৈরি হয়। আগামী পাঁচ বছরে সেটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।