আর বিক্রি হবে না গো মাতা! প্রতিবাদ মুসলিমদেরই
কলকাতা: গো হত্যা নিয়ে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। (Muslim buyers)এই আবহেই এবার হিন্দুদের থেকে গরু কেনাবেচা বন্ধ করল মুসলিমরাই। হাটে নিয়ে গেলেও হিন্দুদের কাছ থেকে গরু …
কলকাতা: গো হত্যা নিয়ে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। (Muslim buyers)এই আবহেই এবার হিন্দুদের থেকে গরু কেনাবেচা বন্ধ করল মুসলিমরাই। হাটে নিয়ে গেলেও হিন্দুদের কাছ থেকে গরু কিনছেন না মুসলিম খদ্দেররা। সম্প্রতি এই ধরণের একাধিক ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে মুসলিম খদ্দেররাই হিন্দুদের ফিরিয়ে দিয়ে বলছেন হিন্দুদের কাছে গরু যদি মা হয় তাহলে কুরবানীর জন্য কেন গরু বিক্রি করছে হিন্দুরা।
কেউ একে ধর্মীয় সচেতনতা বলছেন, কেউ আবার অর্থনৈতিক সংকটের নতুন রূপ।নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০-এর কড়া প্রয়োগ শুরু করেছে। শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত কসাইখানায়, নির্দিষ্ট বয়সের ও সার্টিফিকেটযুক্ত পশু হত্যার অনুমতি। অবৈধ হাট-বাজার বন্ধ, সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কুরবানির ঈদের আগে এই নিয়মের কারণে গরু-মোষের বাণিজ্যে ধাক্কা লেগেছে।
অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ এই নিয়মকে স্বাগত জানিয়ে নিজেরাই গরু কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমি স্পষ্টভাবে আবেদন করেছেন, হিন্দু ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা মাথায় রেখে গরু কুরবানি না করতে। ছাগল দিয়ে কুরবানি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অনেক মুসলিম যুবক হাটে গিয়ে হিন্দু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে গরু ফেরত দিয়ে আসছেন। এই প্রতিবাদকে কেউ কেউ ‘ধর্মীয় সম্প্রীতির নতুন উদাহরণ’ বলে অভিহিত করছেন।
তবে এই পরিস্থিতি অর্থনৈতিকভাবে অনেক হিন্দু পরিবারকে বিপদে ফেলেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট খামারিরা। তারা বলছেন, গরু পালনের খরচ অনেক। কুরবানির সময় বিক্রি না হলে ঋণ শোধ করবেন কী করে? একজন খামারি জানান, “আমরা তো গরু কাটি না। শুধু পালন করি। ঈদের সময় বিক্রি করে সংসার চালাই। এখন কী হবে?” কোনো কোনো জায়গায় হাট একেবারে ফাঁকা। গরু নিয়ে বসে থাকা বিক্রেতাদের মুখে হতাশা।