বন্ধ হবে সব অবৈধ মাদ্রাসা, বললেন মন্ত্রী
এই সময়, বর্ধমান ও দুর্গাপুর: এ বার মাদ্রাসা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। সতর্ক করে জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের সমস্ত অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
শনিবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের কালনা গেট এলাকার নিজের ভাড়া বাড়িতে আসেন তিনি। সেখানে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘যে দপ্তরগুলির দায়িত্ব পেয়েছি, সেই দপ্তরগুলি ঘুঘুর বাসা হয়ে রয়েছে। দামি সার্ফ আর সানলাইট দিয়ে পরিষ্কার করব, যদি নিজেরা না-বদলায়।’ তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যে সমস্ত অবৈধ মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ওরা না-করলে আমরা করব। আবার খোলার চেষ্টা করলে বুলডোজার চালাব উত্তরপ্রদেশের মতো। কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।’
এ দিন ২০১১-এর পর থেকে তপসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষদের যে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন বর্ধমান বাণীপীঠ হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক। তিনি বলেন,’ এই কাস্ট সার্টিফিকেট যা দেওয়া হয়েছিল, সেটা নিয়ে আমি আমার দপ্তরের সচিবকে বলেছি সিআইডি দিয়ে তদন্ত করানোর জন্য। এই শংসাপত্র যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদেরও ছাড়ব না আমরা। অনেকেই এই নকল শংসাপত্র নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আছেন বা বিভিন্ন কলেজে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়েছে, সরকারি সুবিধা নিয়েছে।’ তিনি জানিয়েছেন, কাউকেই ছাড়া হবে না, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবেন।
নতুন সরকারের সাত দিন নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা সবাই মিলে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। গুজরাট ও ইউপি মডেলে পশ্চিমবঙ্গে সরকার চালাব। সবাই একসঙ্গে কাজ করছে। যেখানে দুর্নীতি আছে, সেগুলো দূর করতে হবে। রং বদলাতে হবে, জামা বদলাতে হবে, না-হলে কপালে দুঃখ আছে।’
মন্ত্রী এ দিন দেখা করেন দিশম আদিবাসী গাঁওতা সদস্যদের সঙ্গে। সার্বিক উন্নয়ন-সহ বেশ কিছু দাবি নিয়ে ৫৫ দিন ধরে দুর্গাপুরে সিটি সেন্টার অঞ্চলে ক্ষুদিরাম সরণির ধারে অবস্থান করছেন এই সংগঠনের সদস্যরা। জমির পাট্টা, কর্মসংস্থান, শিক্ষার মানোন্নয়ন-সহ বেশ কিছু দাবি রয়েছে তাদের। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তার ধারে তাঁবু করে অবস্থান করছেন। মন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পরে বলেন, ‘রাজ্যে বিজেপির সরকার এসেছে। দুর্গাপুরের দুই জনপ্রতিনিধি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই ও চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলব। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের যে সমস্যা আছে, তা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তা হলেই সমাধান হবে।’