১ জুলাই থেকেই নবম-দশমে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক, পাঠক্রম নিয়ে আর কী নির্দেশ CBSE
কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ বা CBSE (Central Board of Secondary Education) বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে স্কুলের ভাষা নীতিতে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর সুপারিশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ মে নির্দেশিকা জারি করে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, নবম ও দশম পড়ুয়াদের জন্য ১ জুলাই থেকেই চালু হয়ে যাবে এই নিয়ম।
CBSE-র জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দু’টি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীরা যদি কোনও বিদেশি ভাষা বেছে নিতে চায়, তবে সেটি শুধুমাত্র তৃতীয় ভাষা হিসেবে বা অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবে নেওয়া যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় ভাষাগুলিকে R1, R2 এবং R3 হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে R3 অর্থাৎ তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক হলেও, দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় সেই ভাষার কোনও বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে না। CBSE জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে স্কুলগুলিকেই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে ওই ভাষার মূল্যায়ন করতে হবে এবং সেই নম্বর CBSE সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকবে।
বোর্ড আরও জানিয়েছে, কোনও ছাত্রছাত্রী R3 বা তৃতীয় ভাষার কারণে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসতে বাধা পাবে না। অর্থাৎ তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক হলেও, সেটিকে বোর্ড পরীক্ষার অংশ করা হচ্ছে না।
এই নতুন নীতি কার্যকর করতে গিয়ে বেশ কিছু বাস্তব সমস্যার কথাও স্বীকার করেছে CBSE। বিশেষ করে বহু স্কুলে পর্যাপ্ত ভাষাশিক্ষক নেই। তাই অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে বোর্ড জানিয়েছে, অন্যান্য বিষয়ের এমন শিক্ষক যাঁদের ওই ভাষায় কার্যকর জ্ঞান রয়েছে, তাঁদের দিয়ে ক্লাস করানো যেতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন বা হাইব্রিড ক্লাস, একাধিক স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগাভাগি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং স্নাতকোত্তর স্তরের যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পাঠ্যবই নিয়েও রয়েছে অস্থায়ী ব্যবস্থা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির জন্য আলাদা R3 বই সম্পূর্ণ তৈরি না হওয়ায় আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণির ভাষার বই ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। CBSE আরও জানিয়েছে, স্কুলগুলিকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে OASIS পোর্টালে তারা কোন কোন ভাষা পড়াবে তার তথ্য আপডেট করতে হবে। বিস্তারিত গাইডলাইন ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে বোর্ড ।
বিশেষ সুবিধার কথাও ঘোষণা করেছে বোর্ড। বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়া (CwSN), বিদেশ থেকে ভারতে ফেরা ছাত্রছাত্রী এবং বিদেশে অবস্থিত CBSE স্কুলগুলির জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পৃথক ভিত্তিতে নমনীয়তা দেখানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তিন-ভাষা নীতি ভারতে নতুন নয়। ১৯৬৮ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রথম এই ধারণা চালু হয়েছিল। পরে NEP 2020-এ বহুভাষিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন CBSE নীতি সেই পথেই হাঁটছে।