মহিলা ঢাকি নিয়ে বিজয় মিছিল, পেট ভরে মাছ–ভাত
এই সময়, পুরুলিয়া ও খণ্ডঘোষ: রাজ্যে শপথ গ্রহণ করে পুরোদমে কাজে নেমে পড়েছে নতুন রাজ্য সরকার। তবে দলের জয় নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা এখনও চলছে। যে রঙিন, বর্ণময় ছবি শুক্রবারও দেখা গেল।
রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, কোনও অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না ডিজে। দলীয় নির্দেশ মনে বিজেপির কর্মীরাও বিজয় মিছিলে ফিরিয়ে এনেছেন পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানা। শুক্রবার মানবাজারের ডুমুরিয়া গ্রামে বিজেপির বিজয় মিছিলে ছিলেন ১৪ জন মহিলা ঢাকি। এই মহিলা ঢাকিরা আসেন বাঁকুড়া থেকে। বিজেপির ডুমুরিয়া বুথের বুথ সভাপতি বিকাশচন্দ্র রায় বলেন, ‘ডিজে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তা ছাড়া আমাদের দলের রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তাই আমরা মহিলা ঢাকিদের নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল করলাম।’
এই উদ্যোগ নিয়ে মহিলা ঢাকি অঞ্জলি কালিন্দী বলছিলেন, ‘ডিজে বন্ধ হতেই বিজেপির বিজয় মিছিলগুলিতে আমাদের প্রায় প্রত্যেক দিনই কোনও না–কোনও জায়গা থেকে ডাক পড়ছে। বিজেপির কার্যকর্তাদের এই ভাবনা অত্যন্ত ভালো। পুরুলিয়া জেলায় এই প্রথম বার এলাম। আরও অনেক জেলায় আমাদের বায়না রয়েছে।’
এ দিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ কেন্দ্র থেকে জিতেছেন তৃণমূলের প্রার্থী। তবে উৎসবে পিছিয়ে নেই বিজেপির কর্মীরা। এ দিন জয়ের উৎসব পালন করলেন বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সদস্যরা। খণ্ডঘোষের বোঁয়াইচণ্ডী গ্রাম থেকে মিছিল স্টেশন বাজার হয়ে পুরো গ্রামে ঘোরে। গ্রামের মানুষদের মিছিলের শেষে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়। প্রায় ৩০০০ মানুষ এই মাছ-ভাত খেয়েছেন। এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন ৪ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক কৌশিক মণ্ডল এবং যুব সভাপতি পলাশ হাজরা। কৌশিক বলেন, ‘আমরা খণ্ডঘোষ ব্লকে অল্পের জন্য জিততে পারিনি, তবে রাজ্যে আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দল নির্বিশেষে সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সবাই এসেছেন।’
এ দিনের মিছিলে রাম-লক্ষ্মণ–সীতা সাজানো হয়েছিল। বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ বলেন, ‘বাংলার সংস্কৃতি ও বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে সম্মান জানিয়েই এই বিশেষ আয়োজন।’