বিশ্বের এই অবাক করা খাবারগুলি খেয়েছেন কি?

প্রতিটি দেশেরই কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকে, যা সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সারা বিশ্বে এমন অনেক খাবার রয়েছে যার স্বাদ এতটাই ভিন্ন বা তৈরির উপকরণ খুবই আলাদা, যে অনেকেই হয়তো সেগুলি খাননি।

প্রাণীর বিশেষ অঙ্গ, ফারমেন্টেড করা খাবার বা অন্য রকম কোনও রান্নায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সেখানকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই তালিকায় রয়েছে ভুটানের জাতীয় খাবার এমা দাতশি। এটি মূলত সেখানকার আঞ্চলিক লঙ্কা এবং গলানো চিজ দিয়ে তৈরি এক ঝাল ও সুস্বাদু পদ। এটি ভুটানের মানুষের দৈনন্দিন খাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাঁদের অন্যতম প্রিয় ‘কমফোর্ট’ ফুড।

আইসল্যান্ডের হাকার্ল হলো সেখানকার খুব প্রসিদ্ধ একটি খাবার। এটি তৈরি হয় ফারমেন্ট করা হাঙরের মাংস দিয়ে। এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধের কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত খাবারগুলোর অন্যতম। তবে আইসল্যান্ডে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু পদ।

জাপানের ‘নাত্তো’ হলো ফারমেন্ট করা সয়াবিন। এর আঠালো, মিহি সুতোর মতো টেক্সচার এবং তীব্র গন্ধ অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও জাপানে কিন্তু এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর সকালের জলখাবার।

পেরুতে গিনিপিগ বা কুই একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। সাধারণত এটি সম্পূর্ণ রোস্ট করে পরিবেশন করা হয় এবং পেরুর প্রাচীন আন্দীয় সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো এই কুই।

ফিলিপিন্সের ‘বালুত’ হলো আংশিক বিকশিত ভ্রূণসহ একটি হাঁসের ডিম। এটি ফিলিপাইনের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। এই খাবারটি উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ। অনেকেই এটিকে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর বলে মনে করেন।

সুইডেনের ‘সুরস্ট্রোমিং’ হলো ফারমেন্ট করা বাল্টিক সাগরের হেরিং মাছ। এটি সুইডেনের ঐতিহ্যবাহী খাবার। এর তীব্র গন্ধের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত খাবারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। সাধারণত খোলা জায়গায় খাওয়া হয়। রুটি, পেঁয়াজ, মাখন এবং আলুর সঙ্গে এই মাছ পরিবেশন করা হয়।

একটি দেশের কাছে যা খুব সাধারণ খাবার, অন্য দেশের কাছে তা বিস্ময়কর মনে হতে পারে। ভুটানের ঝাল চিজ থেকে সুইডেনের ফারমেন্ট করা মাছ—এই খাবারগুলো দেখায় যে বিশ্বের খাদ্যসংস্কৃতি কতটা বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়।