বিরোধিতা চরমে! এবার ভারতীয় রিক্সায় নিষেধাজ্ঞা জারি নেপালের
কাঠমান্ডু: কাঠমান্ডু-জোগবানি সীমান্ত। দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তের দু’পাশে চলত এক অনন্য যাতায়াত ব্যবস্থা (Nepal)। ভারতের বিহারের জোগবানি থেকে নেপালের রানি পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে যেতেন ভারতীয় রিকশাওয়ালারা। সকাল থেকে …
কাঠমান্ডু: কাঠমান্ডু-জোগবানি সীমান্ত। দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তের দু’পাশে চলত এক অনন্য যাতায়াত ব্যবস্থা (Nepal)। ভারতের বিহারের জোগবানি থেকে নেপালের রানি পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে যেতেন ভারতীয় রিকশাওয়ালারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের রিকশার চাকা ঘুরত দুই দেশের মধ্যে। পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী সবাই এই সস্তা ও সুবিধাজনক যাতায়াতের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই ছবি বদলে গেছে।
নেপালের কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারি উদ্যোগে ভারতীয় রিকশাওয়ালাদের এখন আর নেপালের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ একই সময়ে নেপালি রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন ভারতীয় সীমান্তে অবাধে যাতায়াত করতে পারছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শত শত ভারতীয় পরিবারের জীবিকা একেবারে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যাঁরা সকালে রিকশা নিয়ে বের হতেন, তাঁদের অনেকেই এখন বেকার বসে আছেন।
কেউ কেউ বলছেন, “রোজগার বন্ধ হয়ে গেলে সংসার চলবে কী করে? ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, বাড়ির খরচ সবই তো এই রিকশার ওপর নির্ভর ছিল।”স্থানীয় সূত্রগুলি জানাচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু রিকশায় সীমাবদ্ধ নয়। নেপাল সরকার ভারতীয় যানবাহনের জন্য অনলাইন কাস্টমস সিস্টেম ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যা একতরফাভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
অথচ নেপালি যানবাহন ভারতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে এমন কোনও জটিলতা তৈরি করা হয়নি। এই ধরনের পদক্ষেপকে অনেকেই “একতরফা শত্রুতা” হিসেবে দেখছেন। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এমন অসম ব্যবহার কেন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর মতো আরও শতাধিক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সীমান্ত এলাকার ছোট ছোট দোকানদারদের ব্যবসাও প্রভাবিত হয়েছে।
কারণ পর্যটক কমে যাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমেছে।কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা চলছে। বালেন শাহের নেতৃত্বে এমন সিদ্ধান্তগুলি নেপালের কিছু অংশের জাতীয়তাবাদী আবেগকে তুষ্ট করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সাধারণ মানুষের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ভারত-নেপাল সম্পর্ক সবসময়ই “রোটি-বেটি”র সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত। খোলা সীমান্ত, সাংস্কৃতিক মিল, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এসবই দুই দেশকে আলাদা করে রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কয়েকটি ঘটনায় এই সম্পর্কে চিড় ধরেছে।ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও বিহার সরকার এই বিষয়ে নজর রাখছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উচিত দৃঢ় কিন্তু কূটনৈতিকভাবে পরিপক্ব পদক্ষেপ নেওয়া। যেমন নেপালি যানবাহনের ওপর অনুরূপ নিয়ন্ত্রণ আরোপ, সীমান্ত বাণিজ্যে সুবিধা পুনর্বিবেচনা ইত্যাদি। কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একতরফা ছাড় দেওয়া শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়।