বঙ্গে বুলডোজার অভিযানে বিস্ফোরক মমতার হাত ধরে রাজ্যসভায় যাওয়া নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বঙ্গে বুলডোজার অভিযানে বিস্ফোরক মমতার হাত ধরে রাজ্যসভায় যাওয়া নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা

Spread the love

কলকাতায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বুলডোজার অভিযান নিয়ে এবার মুখ (Ahmed Hassan Imran)খুললেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান। তিনি দাবি করেছেন, কলকাতায় মুসলিম …

কলকাতায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বুলডোজার অভিযান নিয়ে এবার মুখ (Ahmed Hassan Imran)খুললেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান। তিনি দাবি করেছেন, কলকাতায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র আবাসন সঙ্কট রয়েছে এবং সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক অনুমতির সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আহমেদ হাসান ইমরান ২০১৪ সালে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজ্যসভার সদস্য হন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, আহমেদ হাসান ইমরান নিষিদ্ধ ইসলামি সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া’ (SIMI)-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বা পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান ছিলেন। ২০২১ সালে সুপ্রিমকোর্ট এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

সম্প্রতি কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন বুলডোজার অভিযান চালায়। এই অভিযানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলে আদালত আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে। সেই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আহমেদ হাসান ইমরান বলেন, “এই বিষয়ে হাইকোর্ট বর্তমানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করি।”

আরও দেখুনঃ মোহনবাগানকে টেক্কা দিয়ে CAB প্রথম ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন টাউন ক্লাব

তবে এরপরই তিনি কলকাতায় মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাসন সমস্যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, “কলকাতার মুসলিম সমাজ দীর্ঘদিন ধরে আবাসনের সংকটে ভুগছে। তাঁরা সাধারণত নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে বসবাস করেন, কারণ এখনও এমন বহু হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে যেখানে মুসলিমদের বাড়ি ভাড়া দিতে অনীহা দেখা যায়।”

ইমরানের এই মন্তব্য নতুন করে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক বৈষম্যের বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতির ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে অনিয়মিত বা অবৈধ উপায়ে বাড়ি নির্মাণের পথে গিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “একটা অনানুষ্ঠানিক অনুমতির ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। কাউন্সিলরদের টাকা দিয়ে মানুষ তিনতলা পর্যন্ত বাড়ি তৈরি করতেন।”

সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্য, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব, যাতে জরিমানা নিয়ে এই বাড়িগুলোকে নিয়মিত করা হয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, শুধু সাধারণ মানুষকে দোষারোপ করলে হবে না, যারা এই ধরনের নির্মাণে মদত দিয়েছে বা অনুমতি দেওয়ার নামে দুর্নীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “যারা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অবৈধ নির্মাণকে কার্যত সমর্থন করা হচ্ছে। আবার অন্যদিকে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর একাংশ বলছে, শহরে আবাসন বৈষম্য বাস্তব সমস্যা এবং সেটি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতায় দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ এবং বেআইনি বহুতল সমস্যা রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির কারণে বহু এলাকায় নিয়ম না মেনেই বাড়ি তৈরি হয়েছে। ফলে এখন বুলডোজার অভিযান শুরু হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *