সরষের মধ্যেই ভূত! NEET-কাণ্ডে গ্রেফতার প্রশ্নফাঁসের ‘মাস্টারমাইন্ড’ অধ্যাপক
নয়াদিল্লি ও পুনে: ২০২৬ সালের সর্বভারতীয় মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষা (NEET-UG)-র প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার যে তথ্য সামনে এল, তা গোটা দেশের শিক্ষামহলে ভূমিকম্প এনে দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ন্যাশনাল …
নয়াদিল্লি ও পুনে: ২০২৬ সালের সর্বভারতীয় মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষা (NEET-UG)-র প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার যে তথ্য সামনে এল, তা গোটা দেশের শিক্ষামহলে ভূমিকম্প এনে দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (NTA)-র বিশ্বাসযোগ্যতাকে এক ধাক্কায় খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে এই চক্রের মূল হোতা বা ‘কিংপিন’কে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতের নাম অধ্যাপক পি ভি কুলকার্নি। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, কুলকার্নি লাতুরের দয়ানন্দ মেডিকেল কলেজের রসায়নের অধ্যাপক এবং তিনি নিজেই এবারের NEET-UG-র প্রশ্নপত্র তৈরির কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন! (NEET UG 2026 paper leak)
অর্থাৎ,সরষের মধ্যেই ভূত! পুনে থেকে কুলকার্নি গ্রেফতার হওয়ার পর এই তদন্তে এক নজিরবিহীন মোড় এসেছে। ২০২৪ সালের তদন্তে এনটিএ-র ভেতরে সরাসরি ফাঁসের প্রমাণ না মিললেও, ২০২৬-এর এই ঘটনা সরাসরি ‘ইনসাইডার’ বা ভেতরের লোকের যোগসূত্র প্রমাণ করে দিল।
সিবিআই তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপারেশন চালিয়েছিলেন কুলকার্নি। তাঁর সহযোগী মণীষা ওয়াঘমারে (যাকে ১৪ মে গ্রেফতার করা হয়েছে)-র সাহায্যে মোটা টাকার বিনিময়ে একদল পরীক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। পুনেতে কুলকার্নির নিজস্ব বাসভবনে বসত এই ‘স্পেশাল কোচিং ক্লাস’। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীরা সেখানে আসত। সেই ক্লাসে কুলকার্নি নিজে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন, চারটে অপশন এবং সঠিক উত্তর মুখে বলে ডিক্টেশন দিতেন। পরীক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নগুলো খাতায় লিখে রাখত। সিবিআই-এর ফরেনসিক রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের খাতার সেই হাতের লেখা নোটের সঙ্গে ৩ মে হওয়া আসল NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে গিয়েছে!
দেশজুড়ে সিবিআই তল্লাশি, ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি
ধৃত কুলকার্নির আদি বাড়ি লাতুরে, যা মেডিকেল কোচিংয়ের বড় হাব হিসেবে পরিচিত। অপরাধের জাল বিছিয়ে তিনি পুনে থেকে কাজ চালাচ্ছিলেন। সিবিআই তাঁকে পুনে আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দিল্লির সদর দফতরে নিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুনে এবং আহলিয়ানগরে ম্যারাথন রেইড চালিয়ে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং বহু আপত্তিকর নথি বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চরম মুখ পুড়ল NTA-র
প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে তা পরীক্ষার সেন্টারে পাঠানো, গোটা চেইনের দায়িত্ব কার কার হাতে ছিল, তা জানতে গত বুধবারই দিল্লির এনটিএ (NTA) সদর দফতরে হানা দিয়েছিল সিবিআই আধিকারিকরা। উচ্চশিক্ষা দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ মে সিবিআই এই মামলার দায়িত্ব নেয়। খোদ প্রশ্ন মূল্যায়ন কমিটির সদস্যই প্রশ্ন বেচে দেওয়ায় এখন চরম অস্বস্তিতে দেশের পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা।