ভারতের হাই কমিশন ঘেরাও করা উগ্রবাদী তাহরিমা জান্নাত সুরভি ভিসা নিয়ে ভারতে
বাংলাদেশের এক বিতর্কিত উগ্রবাদী এবং ভারত বিদ্বেষী তাহরিমা জান্নাত সুরভিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Tahreema Jannat)। বিভিন্ন এক্স , ফেসবুক এবং টেলিগ্রাম পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, …
বাংলাদেশের এক বিতর্কিত উগ্রবাদী এবং ভারত বিদ্বেষী তাহরিমা জান্নাত সুরভিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Tahreema Jannat)। বিভিন্ন এক্স , ফেসবুক এবং টেলিগ্রাম পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, তিনি নাকি সম্প্রতি ভারতে এসেছেন এবং বর্তমানে ত্রিপুরার আগরতলা অথবা কলকাতার আশপাশে রয়েছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রমাণ বা ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ সামনে আসেনি। তবুও বিষয়টি ঘিরে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে তাহরিমা জান্নাত সুরভির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন ঘিরে হওয়া এক বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিছু পোস্টে তাঁকে উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির কোনও স্বাধীন বা সরকারি যাচাই এখনও হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দুই-ই বাড়ছে।
আরও দেখুনঃ মদের দোকান বন্ধ করার দাবিতে বিজেপি সমর্থকদের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ শ্রীনগর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি হিন্দুদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, সাধারণ তীর্থযাত্রীদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া কঠিন হলেও বিতর্কিত ব্যক্তিরা কীভাবে সহজে ভারতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনেকে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য বিশেষ তীর্থ ভিসা চালুর দাবিও তুলেছেন।
তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার দাবির উপর ভিত্তি করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, যদি কোনও ব্যক্তি সত্যিই বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন বা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন, তাহলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজ্য পুলিশ যথাযথ তদন্ত করবে। কিন্তু যাচাইবিহীন তথ্য ভাইরাল হলে তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
এদিকে, আগরতলা ও কলকাতার কিছু রাজনৈতিক কর্মী বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একাধিক পোস্টে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, ত্রিপুরা পুলিশ, বিদেশ মন্ত্রক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে ট্যাগ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সংস্থাই প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সীমান্ত নিরাপত্তা, উগ্রবাদ এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলি বরাবরই দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ফলে কোনও অভিযোগ সামনে এলে তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।